উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ল কন্যাশ্রী সেতু

0
82

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: সেতু-দুর্ঘটনা রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা, হাওড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জরাগ্রস্ত সেতুগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের কন্যাশ্রী সেতু। তাও আবার উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই। এই ঘটনায় আরও একবার অভিযোগের কাঠগড়ায় উঠল রাজ্য সরকার। সরকারি নেতা-মন্ত্রীরা কন্যাশ্রী সেতু তৈরির টাকায় কাটমানি খেয়েছেন এবং তার জেরেই উদ্বোধনের এক বছরের মাথায় সেতুটি ভেঙে পড়ল বলে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ২ নম্বর ব্লকের গোছাতি গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামগুলির মধ্যে যোগাযোগের সুবিধার জন্য মমতার সরকারের উদ্যোগেই তৈরি করা হয়েছিল কন্যাশ্রী সেতুটি। চকসুলতান গ্রামে পলাশপাই খালের ওপর ২১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কাঠ দিয়েই সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর এই কাঠের সেতুটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। তারপর এক বছরও ঘুরল না। তার মধ্যেই ভেঙে পড়ল সেতুটির একটি অংশ। সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হয়ে গেল দুটি গ্রামের যোগাযোগ। শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কন্যাশ্রী সেতুটি গোছাতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সড়কপথে যোগাযোগের সহজ ও প্রধান মাধ্যম ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় হঠাত্ই ভেঙে পড়ে সেতুটির মাঝের অংশ। বরাতজোরে দুর্ঘটনার সময় সেতুটির ওপর কেউ না থাকায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে সেতুটি ভেঙে পড়ায় চকসুলতান গ্রামের সঙ্গে অন্যান্য গ্রামের সেতুগুলির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি পলাশপাই খালটি সংস্কারের করা হয়। খাল সংস্কারের জন্য নিয়ম না মেনে সেতুর গোড়া থেকে প্রচুর মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ফলেই সেতুটির এই বেহাল দশা হল। শুধু তাই নয়, নিয়ম না মেনে মাটি তোলার জন্য বহু বাড়িও ধসের মুখে পড়েছে।

যদিও এক বছরের মধ্যে কন্যাশ্রী সেতুর বেহাল দশার জন্য শাসকদলের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ তুলেছেন দাসপুর সোনাখালি এরিয়া কমিটির সিপিএমের সদস্য তথা স্থানীয় গোছাতি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শঙ্কর ঘোষ। সেতু ভেঙে পড়ার কারণ খুঁজতে তদন্তের দাবি জানিয়ে শঙ্করবাবু বলেন, ‘এক বছর হল না, গোছাতি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির একাংশ ভেঙে গিয়েছে। প্রচুর টাকা কাটমানি খাওয়ার ফলে সঠিকভাবে কাজ না হওয়ার জন্যই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আমরা সেচদপ্তরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেব।’ দাসপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ সাউ অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। অবিলম্বে সেতুটি মেরামত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কন্যাশ্রী সেতুর মেরামত নিয়ে সেচ দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হবে।’ এরপর রবিবার সকালেই কন্যাশ্রী সেতুর বেহাল দশা খতিয়ে দেখতে সেখানে যান স্থানীয় ব্লক আধিকারিক ও ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরা। শীঘ্রই সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলেও ব্লক আধিকারিক জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here