national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং–এ ২৩ নেতার চিঠি নিয়ে ঝড় ওঠার পর যে আপাত শান্তি ও ঐক্যের ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা দলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছিল সেই ছবির অসারতা গতকাল থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। গুলাম নবি আজাদের সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের পর এদিন মুখ খুলেছেন আর এক ‘বিদ্রোহী’ নেতা কপিল সিবাল। তাদের দেওয়া প্রস্তাবের থেকে একচুলও সরে না এসে সিবাল আবারও জানিয়ে দেন, কংগ্রেসে সর্বসময়ের নেতা চাই। একই সঙ্গে তিনি বলেন স্মরণাতীত কালের মধ্যে কংগ্রেসের এত খারাপ সময় আসেনি।

কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর উদ্দেশে ২৩ জন নেতা যে চিঠি লিখেছিলেন তার প্রধান দাবিই ছিল, কংগ্রেসের সভাপতির পদে একজন সর্বসময়ের, দৃশ্যমান ও কার্যকরী নেতা, সর্বস্তরে নির্বাচনের মাধ্যমে পদাধিকারী নিয়োগ এবং যৌথ সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে দল পরিচালনা। মিটিঙের দু’দিন আগে এই চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এই চিঠি দিয়ে প্রকারন্তরে রাহুল গান্ধীকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গান্ধীদের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা হচ্ছে বলে চিঠির স্বাক্ষরকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা শুরু হয়। প্রবল আক্রমণের মুখে পড়তে হয় চিঠির স্বাক্ষরকারীদের। সাত ঘন্টার উত্তপ্ত বাদানুবাদের পর প্রস্তাব পেশকারী নেতাদের পক্ষ থেকে গুলাম নবি আজাদ ও কপিল সিবাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দলের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই, সবকিছু মিটে গিয়েছে।

মিটে যে কিছুই যায়নি সেটা বোঝা গিয়েছিল গতকাল যখন আজাদ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যেসব পদাধিকারীরা প্রস্তাব পেশকারীদের আক্রমণ করেছেন দলীয় নির্বাচন হলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকৃত কংগ্রেসিরা তাদের প্রস্তাবকে সমর্থন করবেন বলে মনে করেন আজাদ। কপিল সিবাল তারই ধারাবাহিকতায় এদিন জানালেন, ‘’চিঠিটি যদি মানুষ দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন গান্ধী পরিবার সহ অন্য কাউকে ছোট করার উদ্দেশে সেটি লেখা হয়নি। বরং এতদিন পর্যন্ত দেওয়া নেতৃত্বকে আমরা প্রশংসা করেছি।‘’

চিঠির মূল বক্তব্য জানাতে গিয়ে কপিল সিবাল বলেন, ‘’আমাদের উদ্দেশ্য দলকে পুনরুজ্জীবিত করা। আমরা সেই পুনরুজ্জীবনের অংশীদার হতে চাই। দলীয় সংবিধানের প্রতি এটা আমাদের দায়বদ্ধতা। যে সরকার ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের মূলে আঘাত করছে তাদের বিরোধিতা করার জন্য সকলকে নিয়েই কংগ্রেসকে এগোতে হবে।‘’ এই প্রসঙ্গেই কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘’২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনের ফল থেকে স্পষ্ট কংগ্রেসের ইতিহাসে এখনই সবথেকে খারাপ সময়।‘’

তাদের দেওয়া চিঠি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে যে আলোড়ন উঠেছে সেই প্রসঙ্গে সিবাল বলেন, ‘’আমি আশা করেছিলাম চিঠির বিষয়বস্তু সভায় জানানো হবে। যদি সেটা হতো তাহলে সভায় উপস্থিত সকলে উপলব্ধি করতেন, (চিঠিটি) কংগ্রেসকে শক্তিশালী এবং পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে একজন এমনকি ‘বিশ্বাসঘাতক’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। ভেবেছিলাম অন্যরা তাকে ভর্ৎসনা করবেন। চিঠিতে একটিও অসামাজিক শব্দ ব্যবহৃত করা হয়নি। দলের সর্বোচ্চ ফোরামে এমন শব্দ প্রয়োগ করা হল দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি।‘’

সভাপতিকে দেওয়া চিঠির স্বাক্ষরকারীদের আক্রমণ করার প্রসঙ্গে কপিল সিবাল বলেন, ‘’এটা হয় স্তাবকদের আক্রমণ অথবা যারা তাদের মনের কথা বলতে চায় তাদের মন ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশে করা হয়েছে। যে ভাবে প্রসাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তার থেকে এটা স্পষ্ট যে নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ের কারও নির্দেশেই সেটা করা হয়েছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত চিন্তার।‘’ তার ওপরও কোনও আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ভীত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘’আমাদের কোনও ভয় নেই। আমরা অন্তর থেকেই কংগ্রেসি এবং নির্ভীক কংগ্রেসি হয়েই থাকব।‘’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here