মহানগর ওয়েবডেস্ক: মাসখানেক আগেই হওয়া লোকসভা ভোটের সময় নরেন্দ্র মোদীর পদ্ম ছাপে ঢেলে বোতাম টিপেছিলেন জনগণ। কিন্তু সম্প্রতি হওয়া পুরভোটে ব্যালটের যুদ্ধে সেই গেরুয়াদেরই কার্যত ধূলিসাৎ করে দিল কর্ণাটকের মানুষ। যা দেখার পর রীতিমতো প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়ে গিয়েছে, তবে কি লোকসভা ভোটের একমাসের মধ্যেই হঠাৎ মন বদলে গেল জনগণের। নাকি বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, সত্যিই ইভিএমে কোনও প্রযুক্তিগত কারচুপি করা সম্ভব?

প্রশ্ন ওঠাটা বোধগম্য এবং কারণটা জলের মতো সহজ। মাসখানেক আগে লোকসভা ভোটের ভোটগ্রহণ হয়েছিল কর্ণাটকে। ২৩ মে ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা যায়, রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসনই দখল করেছে বিজেপি। কংগ্রেস ও জোটসঙ্গী জেডিএস-র কপালে জুটেছে মাত্র একটি আসন। অথচ এক পর হওয়া কর্ণাটকের পুরভোটে ফলাফল কার্যত উল্টো। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় একতরফা জয়লাভ করেছে কংগ্রেস ও জেডিএস জোট। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পুর নির্বাচন হয়েছে ব্যালট পেপারে। এই ফলাফল দেখার পর কর্ণাটকের জোট সরকার যেমন বুকে বল পাবে, তেমনই নতুন করে বিরোধী দলের ব্যালট ফেরানোর দাবিকে আরও মাটি দেবে বলে ধরে নেওয়া যায়।

লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছিল, কর্ণাটকে প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। পুরভোটে এই ছবিটাই ঠিক উল্টো হয়ে গিয়েছে। এবার ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে কংগ্রেস ও জেডিএসের জোট। কর্ণাটকের বিভিন্ন স্তরের পুরসভার মোট ১,৩৬১ আসনে নির্বাচন হয়েছিল। শেষ পাওয়া খবরে, এর মধ্যে ৫০৯টি আসন দখল করেছে কংগ্রেস। অন্যদিকে জোটসঙ্গী জেডিএস দখল করেছে ১৭৪টি আসন। নির্দল সদস্যরা পেয়েছেন ১৬০টি আসন। কংগ্রেস ও জেডিএস জোট যেখানে ৬৮৩টি আসনে এগিয়ে, সেখানে গেরুয়াদের সংগ্রহে ৩৬৬টি আসন। স্থানীয় সূত্রের খবর, মোট আটটি শহর মিউনিসিপ্যালিটির মধ্যে পাঁচটি যাচ্ছে কংগ্রেস-জেডিএসের দখলে, একটি বিজেপির দখলে, দু’টি নির্ভর করছে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনের উপর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here