মহানগর ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার রাতে প্রফেট মহম্মদকে নিয়ে ‘বিতর্কিত’ একটি পোস্ট করেন বেঙ্গালুরুর এক কংগ্রেস বিধায়কের আত্মীয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত আগুন জ্বলে উদ্যান নগরীতে। কট্টরপন্থীদের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর, জ্বালানো হয় থানা, একাধিক গাড়ি। হামলা হয় বিধায়কের বাড়িতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ায় গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ, মৃত্যু হয় তিন হাঙ্গামাকারীর। আহত হন পঞ্চাশের বেশি পুলিশ কর্মী।

তবে এই ঘটনায় সব মহল থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে। সব পক্ষই দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি করেছে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীও ঘটনাকে পূর্ব পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বম্মাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পুরো ক্ষতিপূরণ হাঙ্গামাকারীদের থেকেই উসুল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই ধরণের হাঙ্গামা যখন হয় ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, তখন ক্ষয়ক্ষতি যা হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হাঙ্গামাকারীদের থেকেই নেওয়া হবে। এই ঘটনায় মোট কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার মোট হিসেব করার নির্দেশ আমি দিয়ে দিয়েছি। পুরো ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের থেকে নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার রাতে করা ফেসবুকে একটি পোস্ট ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বেঙ্গালুরু। কংগ্রেসের বিধায়ক শ্রীনিবাস মূর্তী’র এক নিকট আত্মীয়ের করা ওই ফেসবুক পোস্টটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে আহত করেছে বলে অভিযোগ। এই পোস্টের জেরে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। যার করা ফেসবুক পোস্ট নিয়ে এই হিংসার ঘটনা ঘটেছে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে হিংসা ছড়ানো, পাথর ছোড়া ও পুলিশকে আক্রমণ করার অভিযোগে ১১০ জন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয় পুলিশ সূত্রে। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ লাঠি চালায় এবং টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিধায়কের বাড়িতে হামলা চালিয়ে একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here