kolkata

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আশা ছিল যা তাই করলেন কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার কে আর রমেশকুমার৷ তিনি ফের বিধায়ক পদ খারিজের পথে গেলেন৷ এর আগে তিনি তিনজন বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজ করেছিলেন স্পিকার৷ রবিবার আরও ১৪ জন বিদ্রোহীর বিধায়ক পদ খারিজ করলেন স্পিকার৷ এদের মধ্যে ১১জন কংগ্রেস ও তিন জন জনতা দল সেক্যুলারের৷ তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া৷ বাতিল বিধায়কদের মধ্যে আছেন কংগ্রেসর বাসবরাজ, সুধাকর, নাগরাজরা আছেন৷ সেইসঙ্গে আছেন কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত রোশন বেগ৷ সব মিলিয়ে কর্ণাটক বিধানসভায় রবিবারের পর মোট বিধায়ক সংখ্যা ২২৪ থেকে কমে ২০৭ হল৷ এরমধ্যে সংখ্যাগরিষ্টতার জন্য প্রয়োজন ১০৪৷ বিজেপির একারই ১০৫জন বিধায়ক আছে৷ কংগ্রেস ও জেডিএস মিলিয়ে ৯৯ জন বিধায়ক আছে৷ স্পিকার বাদে দুজন বিধায়কের একজন আবার মনোনীত৷ তাই তিনি স্পিকারের মতেই ভোট দিতে পারবেন না৷

সোমবার ইয়েদিউরাপ্পা কর্ণাটক বিধানসৌধতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন৷ তার আগে ১৪ জন বিদ্রোহীর বিধায়ক পদ খারিজ নিঃসন্দেহে পদ্ম শিবিরের কাছে বড় ধাক্কা৷ সংবিধানের ৩৯০ বি ধারা অনুসারে বিধায়কপদ খারিজ হলে পরবর্তী সময় নির্বাচনে জিতলেও পাঁচ বছর রাজ্যের কোনও মন্ত্রী হতে পারবেন না সংশ্লিষ্টরা৷ এবার উপনির্বাচন হলে তাঁরা যে জিতবেনই এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেন না? ভারতীয় নির্বাচনের ইতিহাস ঘাঁটলে এই বিষেয় মিশ্র ফল দেখা যায়৷ অনেকেই ব্যক্তি ক্যারিশ্মায় জেতেন৷ অনেকে আবার জিততে পারেন না৷ এর আগে একটিমাত্র ভিডিও কনফারেন্সে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইয়েদিউরাপ্পাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন এই বিরেধীদের তিনি ম্যানেজ করে ফেলেছেন৷ তাঁরা সব পদ্মশিবিরেই নাম লেখাবেন৷ এইসব বিধায়কদের বিজেপি কিনে নিয়েছে(ঘোড়া কেনা-বেচা) বলে এর আগে বার বার অভিযোগ করেছে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা৷ এই নিয়ে বিরোধীরা সংসদের দুই কক্ষে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন৷ বিরোধী বিধায়কদের মুম্বইয়ের রিসর্টে নিয়ে গিয়ে বহুদিন কার্যত বন্দি রেখেছিল পদ্ম শিবির৷ অমিত-ইয়েদিউরাপ্পাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও করেছিল রাহুল গান্ধীর দল৷ যাবতীয় রিসর্ট রাজনীতিতে এদিন কার্যত জল ঢেলে দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক তথা কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার কেআর রমেশকুমার৷

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্পিকার কেআর রমেশকুমার জানান এমন সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর গভীর দুঃখ হয়েছে৷ তাঁর কথায়, আমি এইসব বিধায়কদের কাছে বার বার কথা বলার আবেদন জানাই৷ আমি জানতে চেয়েছিলাম তাঁরা চাপে পড়ে না স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন, কিন্ত তঁরা আমার ডাকে সাড়া দেননি৷ এমনকী আস্থা বোটের সময়েও তাঁর গরহাজির ছিলেন৷ সেজন্য এদের বিধায়ক পদ বাতিল করতে বাধ্য হলাম৷ উল্লেখ্য এই বিধায়কদের মধ্যে কংগ্রেসের বাসবরাজ একসময় ইস্তফাপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বসেছিলেন৷ তবে যথারীতি তিনি তাঁর কথা রাখেননি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here