নিজস্ব প্রতিবেদক, নদিয়া: দলীয় বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটমানি নিয়ে দলের নেতা কর্মীদের প্রতি নির্দেশ বর্তমানে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক রাজ্য জুড়ে। কাটমানির টাকা ফেরত চেয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে প্রতারিতরা৷ যার রেশ এসে পড়লো নদিয়ার শান্তিপুরেও। শান্তিপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এবার কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠলো। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ঘুষ নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগে শান্তিপুরের আরো ১০ টি ওয়ার্ডেও পড়লো কাটমানি পোস্টার। যার মধ্যে শান্তিপুরের চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে এই পোস্টারকে ঘিরে শান্তিপুর জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই কাটমানি পোস্টারকে কেন্দ্র করে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম নেতৃত্ব৷ সিপিএম নেতা সোমেন মাহাতোর অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা তো খাচ্ছেই, তার ওপর ভাড়া করা ঠিকাদারকে দিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বাড়ি তৈরি করছে।

আর এই প্রকল্পে প্রথম থেকেই বঞ্চিত প্রকৃত উপভোক্তারা। শান্তিপুরবাসীর কাটমানি প্রসঙ্গে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ব্যস্ত ২১ শে জুলাই নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য বেশীরভাগ অভিযোগই মিথ্যা। এগুলো বিরোধীদের অপপ্রচার। তবে কাটমানি প্রসঙ্গে অভিযোগের যে যথেষ্ট সারবত্তা আছে তা শান্তিপুরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। আর হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তবে কাটমানি বিষয়ে প্রতারিতরা যেভাবে সংঘবদ্ধ হচ্ছে,তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিতে নদিয়ার গয়েশপুর পুরসভা কাটমানি না দেওয়ার মারধরের অভিযোগ উঠল কাউন্সিলর মিন্টুদের বিরুদ্ধে৷ খালাসিদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে৷ বুধবার কাটমানি সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ দেথালো বিজেপি। বুধবার বিজেপির ডাকা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয় বেলা এগারোটায়। যা শেষ হয় দুপুর দুটো নাগাদ৷

নবদ্বীপ ব্লকের চর মাঝদিয়া চর ব্রহ্মণগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের শৌচাগার সহ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি। তাছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা কাটমানি খাওয়া, একশো দিনের কাজ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রং দেখে গ্রামের মানুষকে সরকারি প্রকল্পের কাজ থেকে বঞ্চিত করা সব মিলিয়ে আট দফা দাবি জানিয়ে, বিজেপি এদিন স্বারকলিপি জমা দেন পঞ্চায়েত প্রধান রিনা দাসকে। বিজেপির ছদফা দাবির মধ্যে মূল দাবি ছিল, একশো দিনের কাজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা অবিলম্বে ফেরত নেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here