মহানগর ওয়েবডেস্ক: এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করার প্রতিবাদে উত্তাল আমেরিকা। সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে গিয়েছে প্রতিবাদের আগুন। কোথাও চলছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, কোথাও আবার তা হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে। হোয়াইট হাউজের বাইরেও চলছে বিক্ষোভ। কিন্তু এসবের মধ্যে ট্রাম্পের কিছুকিছু মন্তব্য বিক্ষোভের আগুনে আরও ঘি ঢালছে। আর সেই কারণেই খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মুখ বন্ধ রাখার ‘পরামর্শ’ দিলেন হিউস্টন সিটি পুলিশের এক পুলিশ আধিকারিক।

পুলিশি হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরই ট্রাম্প ট্যুইট করেছিলেন, ‘লুটপাট শুরু হলেই গুলি করা হবে।’ ট্রাম্পের সেই ট্যুইটের বিরোধিতা করে হিউস্টন সিটি পুলিশের প্রধান আর্ট আচেভেদো রক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে একটা কথাই বলতে চাই। ভালো কোনও কথা না বলতে পারলে দয়া করে নিজের মুখটা বন্ধ রাখুন।’

অন্যদিকে, মার্কিন সময় সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘প্রত্যেক মেয়র ও গভর্নরকে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদি কোনও শহর বা রাজ্য মানুষ ও সম্পত্তি বাঁচানোর স্বার্থে কড়া না হন, তাহলে আমি মার্কিন সেনাবাহিনী ডেকে খুব সহজে সব ঠান্ডা করে দেব।’ হোয়াইট হাউজের বাইরে যখন গোলমাল তখন এক ফাঁকে একাধিক উচ্চপদস্থ আমলা সহ স্থানীয় চার্চে যান ট্রাম্প। সেখানে বাইবেল হাতে নিয়ে ছবিও তোলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের বাইরে লোহার ব্যারিকেড ভেঙে দিতেই বাঙ্কারে গিয়ে লুকোন ট্রাম্প। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন তিনি। সেই সময় নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল হোয়াইট হাউজের সব আলো। দীর্ঘদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর সেদিন অন্ধকারে ডুবে ছিল।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গর গলায় হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ভিডিয়ো ভাইরালও হয়ে যায়। অবশেষে শুক্রবার ওই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

গত সপ্তাহের সোমবার এই ঘটনা ঘটে আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে। ওই কৃষ্ণাঙ্গ মারা যাওয়ার পরপরই ঘটনায় যুক্ত চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। যে পুলিশকর্মী ওই কৃষ্ণাঙ্গের গলায় হাঁটু চেপে বসেছিলেন তার নাম ডেরেক চৌভিন। ওই ঘটনার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে কার্যত আগুন জ্বলছে। বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে গিয়েছে অন্যান্য শহরেও। সম্প্রতি, ফ্লয়েডকে অটোপসি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করার ফলেই তার দেহে অক্সিজেনের পরিবহণ কমে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here