kejriwal-modi

মহানগর ওয়েবডেস্ক: তলে তলে দেশের রাজনীতিতে কবে যে প্রফেশনাল দুনিয়ায় কর্পরেট সংস্থা ঘাঁটি গেড়ে বসল তা বুঝতেও পারল না দেশবাসী। ভোটে জিতে ক্ষমতা দখলে কোনও রাখঢাক না রেখে এখন প্রায় প্রকাশ্যেই কর্পরেট সংস্থার হাত ধরছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর সেই ভোট জেতানো কর্পোরেট দুনিয়ার একেবারে শীর্ষে বসে রয়েছেন বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। তাঁর ঝুলিতে সাফল্যের নজির কম নেই। মোদী থেকে শুরু করে পঞ্জাবের অমরিন্দর সিং, বিহারের নীতীশ কুমারের মতো নেতাদের অনায়াসে ক্ষমতা পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী দল হলেও এবার এই সমস্ত নেতাদের প্রচারের রণকৌশলকে হাতিয়ার করে এবার এবারের বিধানসভা উতরাতে তৈরি হলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

দিল্লিতে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে কেন্দ্রীয় শাসিত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গদই এবার বেশ টলমল। লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির ৭ টি আসনের মধ্যে একটিও জোটেনি আপের কপালে। সবকটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। দলেও ধরেছে ভাঙন। সেই সমস্ত দিক বিচার করে দলের তরফে শুরুতে মনে করা হচ্ছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাক পাঠানো হবে প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু তিনি এখন ব্যস্ত বাংলা নিয়ে। অগত্যা প্রশান্ত কিশোরকে দ্রোনাচার্য্য মেনে একলব্য হতে চলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজনৈতিক গুরু পিকের সাফল্যের মুকুটে জুড়েছে একাধিক পালক তালিকায় রয়েছে ২০১৪ সালে মোদীর বিশাল জয়, ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের জয়, ২০১৭ সালে পঞ্জাবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। এবং সবশেষে ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর পতন ও ওয়াই এস আর জগনমোহন রেড্ডির জয়। আপ সূত্রের খবর, প্রশান্ত কিশোরের হাতে এই চার জয়ের গোপন রহস্য খুঁজে বের করবে তাঁরা। এবং সেই রাস্তা ধরেই এগনো হবে আসন্ন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে। আপ আশাবাদী, পিকের পথ ধরে এখন থেকে হাঁটা শুরু করলে সাফল্য আসতে বাধ্য। আম আদমি পার্টির সহ আহ্বায়ক অঙ্কিত লালের দাবি এমনই।

প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে একটা সময়ে যেভাবে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল মোদীর চায়ে পে চর্চা, হর হর মোদী ঘোর ঘর মোদী, একতার দৌড়ের মতো কর্মসূচী। তেমনই বিহারের নীতীশের কুমারের তালিকায় ছিল, নীতীশ কানেক্ট, নীতীশ কে ৭ নিশ্চয়ের মতো কর্মসূচী। লক্ষ্য পূরণে মোদীর ও নীতীশের ধাঁচে এবার দিল্লিতে আপের তরফে আনা হবে এমন সব কর্মসূচী। তবে শুধু প্রশান্ত কিশোরই আটকে থাকতে চায় না অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি। অঙ্কিত লালের কথায়, নজর রাখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও। মালয়েশিয়া, তুর্কি, ইসরায়েলের মতো একাধিক দেশে রাজনৈতিক নেতারা কীভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন প্রচারকে হাতিয়ার করে নজর রাখা হচ্ছে সেদিকেও। আর এই সবকিছু একত্রে নিয়ে আপ তা কাজে লাগাবে দিল্লি বিধানসভা জয়ের লক্ষ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here