kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: একদিকে শাসকের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই। তার হাতের মুঠো থেকে ছিনিয়ে আনতে হচ্ছে নির্বাচনী জয়। অন্যদিকে শাসকেরই ঘর ভেঙে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করা। কার্যত দুটোই চলছে সমান তালে। বিজেপির এই গেম প্ল্যানের একটা বেশ উদাহরণ সোমবার দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। এদিন একদিকে কেশপুরের মত জায়গায় যখন বিজেপি শাসক তৃণমূলের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে তেমনি অন্যদিকে শাসকেরই ঘর ভাঙিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে কেশপুরের পাশে থাকা ক্ষীরপাইয়ে।

সোমবার সকালে কেশপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মিছিলে যোগ দিতে আসা বিজেপি কর্মীদের উপরে বোমাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ঘটনার জেরে অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। কেশপুর বাজারে এদিন সকালে বিজেপির ডাকা একটি মিছিলে যোগ দিতে যাবার সময় কেশপুর থানার পঞ্চমীর কাছে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ শাসক দলের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। শুরু হয় এলাকায় রুট মার্চ। বোমাবাজির ঘটনায় আহত চার বিজেপি কর্মীকে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরা প্রত্যেকেই বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। আহতরা হলেন শেখ মনজুর হোসেন, শেখ মইদুল, শেখ রফিকুল ও শেখ বাদশা। আহতরা সকলেই কেশপুরের চরকা গ্রামের বাসিন্দা। তবে পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা কেশপুরের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল নেতা মোহাম্মদ রফিক। তিনি বলেন পুরো ঘটনাটাই নাটক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। সিপিএমের ক্যাডাররাই বরং এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করছে।

কেশপুরের রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই সোমবার বিকেলে ক্ষীরপাই এলাকায় বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তাদের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেন এলাকারও ৫০জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক। উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তরুণ কুমার দে। এদিন যারা দল ছেড়েছেন তারা জানিয়েছেন, তৃণমূল নেতারা তাদের সম্মান দেননি। এমন কি তৃণমূল নেতাকর্মীরা গরীব মানুষের কথাও ভাবেনি। তাই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে তৃণমূল ছাড়ছেন ওই ৫০জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক। চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের মনোহরপুর অঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী ঘোষ সহ ওই ৫০জন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী এদিন বিজেপিতে যোগদান করেন। ক্ষীরপাই শহরের বিজেপির দলীয় কার্যালয় তাদের হাতে পতাকা তুলে দেন বিজেপি নেতৃত্বরা। বিজেপিতে যোগদান করতে এসে সব্যসাচী ঘোষ(মনি) বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের কাজ করেছি। কিন্তু কখনই দলের তরফ থেকে সম্মান দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয় দলের নেতারা গরীব মানুষের কথা ভাবেনওনি। তাই এই দলবদল।’ বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার দে বলেন, ‘শুধু এরাই নয় বহু নেতাকর্মীর বিজেপিতে আসার শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র, আর কিছুদিনের মধ্যেই তৃণমূল দলে কেউ থাকবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here