khashgi kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বুধবার  ওয়াশিংটন পোস্টের সৌদি সাংবাদিক  জামাল খাসোগির খুনের এক বছর পূর্ণ হল৷ এর আগে মঙ্গলবার এই বিষয়ে ৪৫ মিনিটের একটি অডিও টেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রসংঘের খাসোগি খুনের তদন্তকারী অ্যাগনেস কালমার ও ব্রিটিশ আইনজীবি হেলেনা কেনেডি৷রাষ্ট্রসংঘের তদন্তকারী দলের কাছে ৪৫ মিনিটের একটি গোপন অডিও রেকর্ড সরবরাহ করেছে তুরস্ক। হেলেনা কেনেডি  ওই তদন্তকারী দলকে সহায়তা করছেন। বিবিসি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে এসে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হেলেন কেনেডি দাবি করেন, খাসোগিকে হত্যার জন্য একজন ফরেনসিক প্যাথলজিস্টকে সৌদি দূতাবাসে আনা হয়েছিল। আর খাসোগিকে হত্যার পর গান শুনতে শুনতে তার দেহ টুকরো টুকরো করেছেন সেই প্যাথলজিস্ট।এমনটাই শোনা গিয়েছে ওই অডিও টেপে৷এমনটাই জানান কেনেডি৷তাঁর কথায়,সেদিন তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকারীরা খাসোগির আসার জন্য অপেক্ষা করছিল তাঁর বক্তব্য, ‘অডিও রেকর্ডে একটি আলোচনা চলছিল যেখানে বলা হচ্ছিল, ব্যাগে মরদেহ ঠিকভাবে ঢোকানো যাবে কি না। এরপর হাসাহাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এক সময় কেউ একজন বলে ওঠে, বলি দেয়ার যোগ্য জানোয়ারটা কি এসেছে?’এ থেকে বোঝা যায় যে, হত্যাকারীদের ওই দল খাসোগির আসার জন্য অপেক্ষা করছিল।

 

খাসগির মরদেহ মেঝেতে শুইয়ে টুকরো করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন কেনেডি।এর প্রমাণ হিসেবে তিনি অডিওতে শোনা ওই প্যাথলজিস্টের বক্তব্যকে শোনান৷তিনি বলেন, ‘খাসোগির মরদেহ কাটার সময় ওই প্যাথলজিস্টকে বলতে শোনা গেছে, জীবনে প্রথমবার আমি মাটিতে শুইয়ে লাশ কাটছি। এমনকি কসাইরাও পশু কাটার সময় সেটিকে ঝুলিয়ে নেয়।’এ সময় প্যাথেলজিস্ট আরও বলেন, ‘লাশ কাটার সময় আমি প্রায়ই গান শুনি। কখনো কখনো হাতে কফি কিংবা সিগারেটও থাকে।’দূতাবাসে ঢোকার পরপরই খাসোগি বুঝে গিয়েছিলেন, তার সঙ্গে খারাপ কোনো কিছু ঘটতে চলেছে। এমন দাবিও করেছেন কেনেডি।কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অডিওতে খাসোগির কণ্ঠে ভয়ের ছাপ টের পাওয়া যাচ্ছিল। একপর্যায়ে খাসোগি তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে লাগলেন।

 

’অডিওটি শুনে এ হত্যাকাণ্ডের ভয়ানক দৃশ্যটি বক্তব্যের মাধ্যমে কল্পনায় নিয়ে এসেছেন অ্যাগনেস ক্যালামার। যিনি রাষ্ট্রসংঘের তদন্তকারী দলের অন্যতম সদস্য।তিনি বলেন, এরপরই হয়তো খাসোগির শরীর থেকে মাথাটা কেটে ফেলা হয়।২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে নিখোঁজ হন। ওই সময়ে সৌদি আরব খাসোগির বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে তুরস্ক প্রথম থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করে।পরবর্তী সময়ে জানা যায়, রিয়াদ থেকে পাঠানো ১৫ জনের একটি দল তাকে হত্যা করে। তার লাশ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে সৌদি সরকার জামাল খাসোগির হত্যার দায় নিয়ে ১১ জনকে বিচারের সম্মুখীন করে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছে।এই বিষয়ে প্রথমে সৌদি যুবরাজ সলমান তাঁর দোষ স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন৷ অন্য১দিকে খাসোগির পরিবারের বিরুদ্ধে টাকা খেয়ে চুপ থকার অভিযোগ উঠেছে৷ যা অস্বীকার করেছে খাসোগির পরিবার৷

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here