‘তেরে জ্যায়সা ইয়ার কাহাঁ’: বন্ধুর ২০০ টাকার ঋণ মেটাতে ৩০ বছর পর হাজির কেনিয়ার সাংসদ

0
5

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ইয়ারানা সিনেমায় কিশোর কুমারের কন্ঠে অমিতাভের ঠোঁটে ফুটে উঠেছিল, ‘ইয়ারা তেরি ইয়ারি কো ম্যানেতো খুদা মানা, ইয়াদ করেগি দুনিয়া তেরা মেরা আফসানা।’ বন্ধুত্বের সংজ্ঞা তো অনেক শুনেছেন, শোলের জয়-বীরুর জুটি কিংবা থ্রি ইডিয়েটসের রাজু, ফারান, র‍্যাঞ্ছোর রসায়ন। তবে এমন ঘটনা একেবারেই বিরল। কথায় বলে, বছর দিয়ে বন্ধুত্বের বিচার হয় না। সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন কেনিয়ার সাংসদ রিচার্ড টোংগি।

বছর ৩০ আগে তিনি স্বদেশ ছেড়ে ওরাঙ্গাবাদের একটি ম্যানেজমেন্ট স্কুলে আসেন পড়াশুনা করতে। চরম আর্থিক দুর্গতির মুখে ৮০-র দশকে তিনি ২০০ টাকা ধার হিসেবে নেন স্থানীয় এক মুদির ব্যবসায়ীর থেকে। এরপরই দোকানী কাশীনাথ গাউলি সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। তারপর গল্পটা মোড় নেয় অন্যদিকে। পড়া শেষ করে ম্যানেজমেন্ট স্কুল ছেড়ে কেনিয়া ফিরে যান রিচার্ড। ভবিষ্যৎ সুনিশ্চত করতে প্রথমে সাধারণ এক চাকুরীজীবী হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে তিনি দেশের সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন।

মাঝে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর, কিন্তু বিপদের দিনে পাশে থাকা বন্ধুকে ভুলে যাননি কেনিয়ার এই যুবক। এবার তাঁরই টানে আর একবার ভারতে মাটিতে পা রাখলেন রিচার্ড। দেখা করলেন ৩০ বছরের পুরনো মিত্রের সঙ্গে। রিচার্ডের ফোন পেয়ে প্রথমে কেঁদে ফেলেন কাশীনাথ। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে কেনিয়ার সাংসদের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকেন দোকানী। ওরাঙ্গাবাদে এসে প্রথমে কাশীনাথের দোকানে গিয়ে ধার নেওয়া ২০০ টাকা ফেরত দেন কাশীনাথের তাঁর এই বিদেশী বন্ধু। বহুদিন বাদে পুরনো বন্ধুকে ফিরে পেয়ে তাঁকে নিয়ে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় গিয়ে মধ্যাহ্নভোজনের প্রস্তাব দেন কাশীনাথ। কিন্তু অমত করে রিচার্ড বলেন, তিনি কোনও বিলাসবহুল হোটেলে যাবেন না। বরং দোকানীর ঘরের মেঝেতে বসে পাত পেড়ে খেলেন কেনিয়ার সাংসদ।

কাশীনাথ আজ তাঁর বন্ধুকে দেখে বেজায় খুশি। বন্ধু পাহাড় প্রমাণ উঁচু হলেও, মাটি থেকে পা সরে যায়নি রিচার্ডের। তাই তো আজ সুদূর কেনিয়া থেকে ভারতে পাড়ি দিলেন ছেড়ে আসা বন্ধুর ঋণ মেটাতে আর তাঁর খোঁজ নিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here