news bengali kolkata

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনার সঙ্গেই আমফান, এক বিপর্যয় না কাটতেই আর এক বিপর্যয়ে লণ্ডভণ্ড শহর। আর তাতেই এক ধাক্কায় কার্যত তলানিতে ঠেকেছে কলকাতা পুরসভার রাজস্ব আয়। হাহাকারের চিত্রটা প্রায় সব জায়গাতেই এক। সেই দিক থেকে বিচার করেই ইতিমধ্যেই প্রায় সর্বক্ষেত্রেই শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। এই অবস্থায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নিয়ম শিথিল করল কলকাতা পুরসভা।

এতদিন ধরে লকডাউনের জেরে সশরীরে পুরসভার মূল কার্যালয় কিংবা বিভিন্ন রাজস্ব আদায় কেন্দ্রগুলি যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সে ক্ষেত্রে ট্যাক্স জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন ব্যবস্থা করা হয়েছিল কলকাতা পুরসভার তরফে। তবে এখনও পর্যন্ত ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনে অভ্যস্ত নন শহরের অধিকাংশ মানুষ। আর তাতেই হাল খারাপ হতে থাকে কোষাগারের। এই অবস্থায় পুরোমাত্রায় রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা। ট্যাক্স জমা দেওয়ার জন্য এবার কলকাতা পুরসভার ট্রেজারি গুলি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এদিন।

এবিষয়ে এদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য অতীন ঘোষ জানান, ‘মানুষ প্রয়োজনে পুরসভার ট্রেজারিতে এসে ট্যাক্স জমা দিতে পারেন। পাশাপাশি, শহরের ২০টি ট্যাক্স কালেকশন সেন্টারের মধ্যে ১৬টি ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি চারটিও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে। পুরসভার আয় কমে গেছে। রাজস্ব জমার ক্ষেত্রে যে রিবেট দেওয়া হয়েছিল, যাঁরা সেই রিবেটের সুবিধা ভোগ করতেন, তাঁদের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে পুরসভা। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সে ব্যাপারেও পুরসভায় এসে আবেদন করতে পারে নাগরিকরা।’

এদিন কলকাতা পুরসভার রাজস্বের বর্তমান হিসেব তুলে ধরে অতীন ঘোষ জানান, ‘গতবছর অর্থবছরের শুরুতে, ১ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত যেখানে ২২৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সেখানে এবার মাত্র ৩৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।’ এই বিপুল লোকসান কিভাবে উশুল করবে পুরসভা! তাই এখন তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্যদের। যদিও করোনার জন্য সাময়িকভাবে কর সংগ্রহের সেন্টার গুলি বন্ধ থাকলেও ইতিমধ্যে কুড়িটি কর সংগ্রহের সেন্টারের মধ্যে খুলে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বাকি চারটি অর্থসংগ্রহের সেন্টার অবিলম্বে খুলে দেওয়া হবে বলে এদিন জানান অতীন ঘোষ।

উল্লেখ্য, লকডাউনের শুরুতেই কলকাতা পুরসভা জানিয়েছিল, ৩১ মার্চ রাজস্ব আদায়ের শেষদিন থাকলেও সেই সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীকালে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে পুরসভা। কিন্তু তাতে তেমন ভাবে সাড়া মেলেনি বলেই পুরসভা সূত্রে খবর। এমনিতেই ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। স্বাভাবিকভাবেই তাই চতুর্থ দফার লকডাউন শেষে এবার পুরো মাত্রায় রাজস্ব আদায় নামল পুরো কতৃপক্ষ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here