ডেস্ক: সরকার বিহীন উপত্যকায় এবার রাজ্যপাল শাসনের অনুমতি দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। মাত্র তিন বছরের সম্পর্কে হঠাৎ বিচ্ছেদ, উপত্যকায় পিডিএ সরকারের থেকে মঙ্গলবারই সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। আর তার জেরেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। হঠাৎ এই অঘটনে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠান জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল নরিন্দর নাথ ভোরা এবং সেখানে রাজ্যপাল শাসনের দাবি জানানো হয়। এবার সেই আবেদনেই সম্মতি দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

রমজান মাস উপলক্ষ্যে ভারত যখন উপত্যকায় সংঘর্ষ বিরতি জারি রেখেছে ঠিক সেই সময় একের পর এক হামলায় উত্তপ্ত হয়েছে উপত্যকা। যার সর্বশেষ নিদর্শন ছিল সেনা জওয়ান ঔরঙ্গজেব জঙ্গিদের অপহরণ ও হত্যা। এই ঘটনার জেরে বেশ চাপেই রয়েছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি খারাপ দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেই তড়িঘড়ি দিল্লিতে একটি বৈঠক ডাকেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ওই বৈঠকেই বিজেপি ঘোষণা করে জম্মুকাশ্মীরের ক্ষমতাসীন দল পিডিএর সঙ্গে তারা আর থাকছেন না। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় মোট আসন ৮৭টি। পিডিপি ও বিজেপির বিধায়ক ছিল যথাক্রমে ২৮ ও ২৫। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর জোট বেঁধেছিল দুই দল। জোট প্রত্যাহারের সময় জম্মু-কাশ্মীরে সমস্যার কারণ হিসাবে মুফতি সরকারকে দায়ী করে বিজেপি। এই ঘটনার কয়েকঘন্টা পর মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন মেহবুবা মুফতিও।

ঠিক তারপরেই পুরো ঘটনার রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে পেশ করেন জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল নরিন্দর নাথ ভোরা। এবং উপত্যকায় রাজ্যপাল শাসনের দাবি জানানো হয়। এদিন সেই দাবিতেই শিলমোহর দেন রাষ্ট্রপতি। ফলস্বরুপ জম্মু কাশ্মীরের গত ১০ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে চতুর্থবার রাজ্যপাল শাসন জারি হতে চলেছে। এদিকে, গতকালের ঘটনার পরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। পুনরায় উপত্যকায় নতুন করে নির্বাচনের পাশাপাশি যতদিন না নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন রাজ্যপাল শাসনের দাবি জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here