news bengali

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: করোনা সংক্রমণ কোথাও কম, কোথাও বা বেশি, এর নিরিখে একটি তালিকা তৈরি করেছে রাজ্য প্রশাসন। তার মধ্যে রয়েছে কলকাতার সংক্রমিত এলাকার তালিকা। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে সেই তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী শহরের তিনটি বরো এলাকা অতি স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। যেখানে করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার সবথেকে আশঙ্কাজনক সাত নম্বর বরো। এখানে সব থেকে বেশি রেড জোন এরিয়া।

বোরো ভিত্তিক হিসাবের নিরিখে শহরের রেড জোন এলাকাগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় যার শীর্ষে রয়েছে সাত নম্বর বরো। বেলেঘাটা, চিংড়িঘাটা, টেংরা, তপসিয়া, তিলজলা, পার্ক সার্কাস। এই সমস্ত এলাকা রয়েছে ৭ নম্বর বোরোর আওতায়। এই একটি বোরোতেই সর্বোচ্চ ৪১টি এলাকা রয়েছে রেড জোনে।

এরপর সব থেকে বেশি সংক্রমণ হয়েছে ৫ নম্বর বোরোতে। এটি শিয়ালদা বড়বাজার ও কলেজ স্ট্রীট এলাকা সংলগ্ন এলাকা। এখানে রয়েছে মোট ২৯টি সংক্রমিত এলাকা বা রেড জোন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৪ নম্বর বোরো এলাকা। এখানে রয়েছে মোট ২৬টি স্পর্শকাতর এলাকা। জোড়াসাঁকো, সেন্ট্রাল এভিনিউ, গিরিশ পার্ক এবং তার সংলগ্ন এলাকার একটা বড় অংশ এই অতি স্পর্শকাতর এলাকার তালিকার আওতায় পড়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ৬ নম্বর বোরো। এখানে ১৯ টি এলাকা রেড জোনের আওতায় পড়েছে। ১ নম্বর বোরোতে ১৮টি, ২ এবং ৩ নম্বর বোরোতে ১৬টি রেড জোন। সবচেয়ে কম সংক্রমণ যুক্ত এলাকা ৮ এবং ৯ নম্বর বরো। এই দুই বোরোতে রয়েছে ১৫টি রেড জোন এলাকা।

অন্যদিকে, ওয়ার্ড ভিত্তিক সবথেকে বেশি রেড জোন রয়েছে ৬০ নম্বর ওয়ার্ড। এটি ৬ নম্বর বোরোর অন্তর্ভুক্ত। এখানে রয়েছে দশটি রেড জোন। এটি লিন্টন স্ট্রিট এলাকা। ১০ টি রেডজন এলাকা রয়েছে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এটি তপসিয়া এলাকা। এটি বোরো নম্বর ৭।

এছাড়া ৬টি রেড জোন এলাকা রয়েছে ৬৫, ৫৯ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। পাঁচটি করে রেড জোন এলাকা রয়েছে এমন ওয়ার্ড গুলি হল ২৪, ৪৪, ৪৮ এ ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড। সবথেকে ভালো অবস্থায় আছে ১৪ নম্বর বোরো। যেখানে মাত্র ১টি রেড জোন। এটি জেমস লং সরণি বেহালা এলাকা। এছাড়াও ২ টি করে রেড জন এলাকা রয়েছে বোরো নম্বর ১৩, ১০ ও ১৬ তে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পুরসভা সূত্রে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, রেড জোনে থাকা ৫৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১২টি রাস্তা বা এলাকা সংক্রমণের আওতায় ছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে সরকারের দেওয়া তালিকায় তা একলাফে দ্বিগুণ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যা চিন্তায় ফেলেছে পুর-প্রশাসনকে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রেড জোন বা সংক্রমিত এলাকার তালিকা তৈরি করেছে কলকাতা পুরসভা। সেইসব এলাকা বেরিকেড দিয়ে কার্যত সিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব বরো বা ওয়ার্ড এলাকায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেশি দেখা দিয়েছে, সেই সব জায়গায় সংক্রমণ সেভাবে বাড়েনি, এমনটাই মত পুর-কর্তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here