FotoJet-6

রাজেশ সাহা: শুরুটা সেই ইংরেজ আমল থেকেই। তৎকালীন ব্রিটিশ পুলিশের হাত ধরে সেই যে একবার পথচলা শুরু হল, তারপর থেকে আর বিরাম নেই। গোটা বিশ্বে নামডাক ছড়িয়ে ঠাই মাথা তুলে এখনো একিভাবে দাঁড়িয়ে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই নতুন নতুন দায়িত্বভার চেপেছে সেই মাথায়। মাথার মুকুটে জুটেছে বহু বিরল পালকও।

তবে এর মধ্যে প্রায় অনেকটাই ভার বেড়েছে মাথার। তাই পায়ের তলার মাটিও যেন কিছুটা টলোমলো! শুধু তাই-ই নয়, ধীরে ধীরে মাটিতেও নিচের দিকে বসেও যাচ্ছে গোটা বাড়িটা। আর এই খানেই ঘুম উড়েছে বহু উচ্চপদস্থ কর্তার। অতএব, স্বাভাবিক ভাবেই হাক পড়েছে বিশেষজ্ঞদেরও। দারোগা বাবুর জরুরি তলব পেয়ে এলাকা ঘুরে গিয়েছেন তাঁরাও। দিয়েছেন বেশ কিছু নিদানও। এখন সেসব পালন করতেই ঘুম ছুটেছে পুলিশের। আর ঘুম ছুটবেই না বা কেনো? এতো আর পাঁচটা যে-সে বাড়ি নয়! একেবারে খোদ কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার বলে কথা!!!

লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে রয়েছে পাঁচটি বাড়ি। যার মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই বাড়িতেই রয়েছে কলকাতা পুলিশের কন্ট্রোল রুম, সদর বাহিনী বা হেড কোয়ার্টার্স ফোর্স-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিস। কয়েকমাস আগেই গোয়েন্দা বিভাগের বাড়িটি সংস্কারের পর নতুন করে ফের কাজ শুরু হয়েছে। তবে ট্রাফিক বিভাগের পাশেই এই মূল ভবনটি সংস্কার হয়নি বহু কাল। সূত্রের খবর, বহু পুরনো ওই বাড়িটি পশ্চিম দিকে বেশ কিছুটা হেলে গিয়েছে। তা দেখার পরেই বাড়িটি পুরোটা পরীক্ষা করানো হয় প্রাথমিক ভাবে। দেখা যায়, বাড়িটর মূল ভিতও মাটিতে কিছুটা বসে গিয়েছে। তারপরেই নড়েচড়ে বসে পূর্ত দফতর। খবর দেওয়া হয় বিশেষজ্ঞদের। জানা গিয়েছে, জরুরি তলব পেয়ে খড়্গপুর আইআইটি-র একটি বিশেষজ্ঞ দল লালবাজার পরিদর্শনে আসেন। ওই বিশেষজ্ঞেরা বাড়িটি পরীক্ষা করে জানান, বাড়িটির উপরে অতিরিক্ত ওজন চাপানো হয়েছে। তাই বিপদ এড়াতে দ্রুত বাড়িটি থেকে বিভিন্ন দফতর সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বিধি মেনে বাড়িটির আমূল সংস্কারের পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

লালবাজারের খবর, খড়্গপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ইতিমধ্যেই কয়েকটি অফিস সরানো হয়েছে। লোকসভা ভোটের আগেই সরিয়ে আনা হচ্ছে কন্ট্রোল রুমও। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বাড়িটি থেকে অ্যাকাউন্টস বিভাগ, আর্মস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই বাড়ির দোতলায় থাকা কন্ট্রোল রুমকে নিয়ে আসা হচ্ছে মূল ভবনের একতলায়। লালবাজারে কর্মরত এক কর্তা বলেন, সেই ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া ইস্তক এই প্রথম স্থানান্তরিত হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। বাকি শাখাগুলিকেও ধীরে ধীরে সরানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here