kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইংরেজবাজার: মালদা জেলার সদর শহর ইংরেজবাজারে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাজিয়ার পিছনে এতদিন যার নাম হাওয়ায় ভাসছিল এবার তিনিই পুরপ্রধানকে হুমকি দিয়ে তার ভূমিকা স্পষ্ট করে দিলেন। এবার বেশ বোঝাই গেল কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী প্রথম দিকে অনাস্থা বিতর্কের জন্য নিজেকে দায়ী না করার যে দাবি জানিয়েছিলেন, আদতে তা ভুল। বরঞ্চ তৃণমূল থেকে বিরোধী শিবির মায় পুরবাসিন্দাদের সকলের কাছেই এটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে যে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই সম্ভবত এই খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সেই খেলায় সামিল হয়েছে গেরুয়া শিবিরও। অন্তত এমনই ধারনা তথা মতামত জাহির করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে আমজনতাও।

কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর ফতোয়াকে ডোন্ট কেয়ার করে, ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রধান নীহার রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা দলেরও ১৫জন কাউন্সিলর যেভাবে অনাস্থা নিয়ে অনড় রয়েছেন তা দেখে বেশ বোঝাই যাচ্ছে বেশ মেপে যোখেই পা ফেলেছেন তারা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের পরেও ইংরেজবাজার পৌরসভার অনাস্থা জট না কাটায় এখন বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের নিয়েও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পুরবাসিন্দাদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাহার হয়নি সেই প্রস্তাব। কার্যত রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশ উপেক্ষা করেই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী কাউন্সিলররা। এরই মধ্যে বর্তমান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন প্রাক্তন পু্রপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।

কৃষ্ণেন্দুর দাবি, ‘বর্তমান পুরপ্রধান নীহার রঞ্জন ঘোষ যা দুর্নীতি করেছে তার তদন্ত হলে তাকে মালদার জেলে নয় বহরমপুরের জেলে থাকতে হবে। মালদার জেলে থাকলে প্রতিদিন মালদাবাসি তাকে থুতু ছিটিয়ে দিয়ে আসবে। এটা গণতন্ত্রের সঙ্গে গণতন্ত্রের লড়াই। গণতন্ত্রের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়বো আমরা। সেই সঙ্গে আদালতের দরজাও খোলা রাখা হচ্ছে।’ এদিন এভাবেই নীহারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন কৃষ্ণেন্দুবাবু। যদিও এদিন কৃষ্ণেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পুরপ্রধান নীহার রঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এই চেয়ারে বসিয়েছেন। কে কি বলল তাতে যায় আসে না। যে বলছে তার আগে থেকেই আমি এই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’ তবে অনাস্থা বিতর্কে এদিন তৃণমূলের সহ-সভাপতি সমর মুখার্জি জানিয়েছেন, ‘আশাকরি সমস্যা মিটে যাবে। এরপরেও যদি না মেটে তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো দল ব্যবস্থা নেবে।’

কিন্তু সমরবাবু বললেও ইংরেজনাজার পুরসভায় অনাস্থা জট যে চট করে কাটছেনা তা বলায় বাহুল্য। গত ২৮শে অগাস্ট এই পুরসভার ১৫ জন কাউন্সিলর পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে্ন। তারপরে জল অনেক ঘোলা হয়। শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে শর্তসাপেক্ষে অনাস্থা তুলতে প্রথমে রাজিও হয়েছিলেন বিদ্রোহীরা। কিন্তু ব্যপারাটা যে অত সহজ হবে না তা বুঝতে পেরে গতকাল থেকেই বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুর। সেই মত কথা ছিল বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে তুলে নেওয়া হবে অনাস্থা। কিন্তু এদিন এব্যপারে কোন হেলদোল দেখা গেল না বিক্ষুব্ধদের মধ্যে। এদিন তারা দপ্তরে তো এলেনই না উপরন্তু নিজেস্বর ফোনও বন্ধ রাখলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here