ডেস্ক: ভবিষ্যৎবানী মিলতে চলেছে অক্ষরে অক্ষরে। রাজনীতির অন্দরে তাঁর বিচক্ষণতা প্রমান দিয়েছেন আগেই। কর্নাটক নির্বাচনের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন দেবগৌড়ার পুত্র কুমারস্বামী। আবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন টুইটে জানিয়েছিলেন, ‘কংগ্রেস জেডিএসের হাত ধরলে এই ফল হত না।’ একইসঙ্গে কর্ণাটকের ফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার পরেই কংগ্রেসের হয়ে মাঠে নামেন মমতা। হাত না ছাড়ার বার্তা দেন জেডিএসকে। তাঁর টুইটের পরই জেডিএসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধে কংগ্রেস। সবকিছুর শেষে শনিবার ইয়েদুরাপ্পার পদত্যাগের পর কুমারস্বামীর শপথ গ্রহনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন না তা কি হয়? সোমবার কর্ণাটকের হবু মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুস্থানে যোগ দিয়ে কর্ণাটক যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

কর্ণাটকে টানটান উত্তেজনা ও দুই দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর, আস্থা ভোটে হেরে যাবেন বুঝতে পেরেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইয়েদুরাপ্পা। বিজেপি নেতার এহেন নাটকিয় পদত্যাগের পর দক্ষিণের এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী এখন জেডিএস নেতা এইচ ডি দেবগৌড়ার পুত্র কুমারস্বামী। সোমবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। কর্ণাটকের আঞ্চলিক দল জেডিএসে সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের এই সফলতার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেবগৌড়াকে শুভেচ্ছাবার্তা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে টুইট করে তিনি বলেন, ‘এই জয় গণতন্ত্রের জয়। কর্ণাটককে আমার শুভেচ্ছা। একইসঙ্গে আমি শুভেচ্ছা জানাই জেডিএস নেতা এইচ ডি দেবগৌড়া, কুমারস্বামী ও কংগ্রেসকে। এই জয় আঞ্চলিক জোটের জয়।’ এরপর কংগ্রেস ও জেডিএসের আমন্ত্রনে কুমার স্বামীর শপথ গ্রহণ অনুস্থানে যোগ দিতে সোমবারই কর্ণাটকে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ সময় পর বিজেপি সবচেয়ে বড় দলের তকমা পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ২২২টি আসনের মধ্যে ১০৪টি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। শাসক দল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৭৮টি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার জেডিএস ৩৮টি আসন পেয়েছে। রাজ্যপাল ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ করান এবং ১৫ দিনের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ প্রমাণের জন্য বলেন৷ যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস এবং জেডিএস৷ সর্বোচ্চ আদালত শনিবার বিকেল চারটের মধ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রমাণে ব্যর্থ ইয়েদুরাপ্পা সংখ্যার অভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here