ডেস্ক: কর্ণাটকে গতকালই বিজেপির বিজয় মিছিল আটকে দিয়েছে কংগ্রেস-জেডিএসের ভোট পরবর্তী সম্মিলিত জোট। বাকিদের থেকে বিজেপি বেশি আসন পেলেও ম্যাজিক ফিগার ১১২ অতিক্রম করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী না থাকায় আস্থা ভোটের আগেই গতকাল ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। একই সঙ্গে দক্ষিণে বিজেপির গেরুয়া সূর্য ওঠার স্বপ্নও অস্তিমিত হয়ে যায়। এবার কংগ্রেস-জেডিএস জোটের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কুমারস্বামীর কাছে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার শপথগ্রহণ করবেন তিনি। কিন্তু বলাই বাহুল্য, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা মোটেই সহজ হবে না কুমারস্বামীর জন্য।

ঘটনা হল, ১৫মে ফলপ্রকাশের পর থেকে কর্ণাটকের রাজনীতিতে যেভাবে পট পরিবর্তন হয়েছে, তা কুমারস্বামীর সরকার গঠনের দাবিকে খুব একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতি দেয় না। বিজেপির প্রলোভনের ফাঁদ থেকে নিজেদের বিধায়কদের আগলে রাখতে টানা ৪ দিন একবার বেঙ্গালুরু একবার হায়দরাবাদে বিভিন্ন রিসর্টে চক্কর কাটতে হয়েছে কংগ্রেস-জেডিএসকে। এই অবস্থায় মন্ত্রীমণ্ডল গঠন করাই আসল চ্যালেঞ্জ হবে কুমারস্বামীর জন্য। সংবাদ সূত্রের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস থেকে ২০ এবং জেডিএসের ঝুলি থেকে ১৩ জন বিধায়ক কুমারস্বামীর ক্যাবিনেটের অংশিদার হবেন। যদিও এক নির্দল এবং অন্য আরও দুই বিধায়কের অবস্থান সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

বলে রাখা ভাল, কংগ্রেসের ৭৮ এবং জেডিএসের ৩৭ জন বিধায়ক নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে নামবে এই দুই দল। এই অবস্থায় কুমারস্বামীর ক্যাবিনেটে জায়গা পাওয়া নিয়ে বিধায়কদের মধ্যে প্রকাশ্য মতানৈক্য দেখা যেতে পারে। আর সেটা হলেই, বিজেপির ‘অপারেশন কমল’ সফল হওয়ার স্বপ্ন ফের একবার উজ্জীবিত হয়ে উঠবে। কারণ, ঘোড়া কেনাবেচার খেলায় মোটা টাকা সহ ক্যাবিনেটে মন্ত্রিত্বর ‘টোপ’ও বিজেপি কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কদের দিয়ে রেখেছে বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন সূত্রে। এই কারণেই কুমারস্বামী জানিয়ে দিয়েছেন, শপথগ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন তিনি। আরও খবর, শপথগ্রহণের পরও ‘স্বাধীনতা’ পাবেন না কংগ্রেস-জেডিএস বিধায়কেরা। একেবারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পরই ছাড়া হবে তাদের। ফলে সরকার গঠনের সুযোগ আসলেও সেটা যে কুমারস্বামীর জন্য ‘কেকওয়াক’ হবে না তা এখন থেকেই বলে দেওয়া যাচ্ছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here