kolkata news

Highlights

  • তাপস পালের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ
  • ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি
  • পোস্টটিতে তোলেন নিজের মায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুতে একের পর এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে জলঘোলা হচ্ছে বিস্তর। বুধবার তাপস পালের শেষকৃত্যে মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘বিজেপির চাপে আহত ও ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল তাপস। বড় অসময়ে মৃত্যু হল তাপসের। প্রতিহিংসামূলক কাজ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, কেন্দ্রের এজেন্সির চাপেই আমাদের তিনজন মারা গিয়েছে।’ এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রসঙ্গেই ফের মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা সাংবাদিক কুনাল ঘোষ।

ফেসবুকে এপ্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ পোস্ট লেখেন তিনি। পোস্টে তুলে আনেন নিজের মায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। পোস্টে তিনি লেখেন, “তাপস পালের মৃত্যু প্রসঙ্গে রবীন্দ্রসদনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। তাপস পাল, সুলতান আমেদ এবং প্রসূনদার স্ত্রী পারমিতাদির মৃত্যুর পিছনে সিবিআই মামলা এবং বন্দিজীবনে হয়রানির চাপ আছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই তত্ত্ব ঠিক হলে বলতে হয় আমার মা প্রয়াত মণিকা ঘোষের অতিরিক্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর জন্য দায়ী রাজ্য সরকার, রাজ্য পুলিশ এবং রাজীবকুমারসহ কয়েকজন অফিসার। আমি জ্ঞানত কোনো দোষ করিনি। আমাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে, মামলার পর মামলা দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় নি। আমাকে অনশন করে মাকে দেখার অনুমতি নিতে হয়েছে। এই চাপে মা আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।”

তিনি লেখেন, “মা সঙ্কটজনক অবস্থায় যখন হাসপাতালে, তখন অনেক কষ্টে মাত্র 2 ঘন্টার প্যারোল আদায় করে দেখতে গেছিলাম। পুলিশের বাড়াবাড়িতে মাত্র কুড়ি মিনিটে আমাকে চলে যেতে হয়েছিল। সেটাও কলকাতা পুলিশ। পরে মা আর বেশিদিন বাঁচেন নি। ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেন নি। আমার জামিনের পর মাকে আর বেশিদিন পাই নি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মারা যান। মুখ্যমন্ত্রী আমার মাকে ভালোভাবে চিনতেন। তাঁর বিবেচনায় আমার মায়ের মৃত্যুর কারণ স্থান না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।”

কুনাল ঘোষ আরও লেখেন, “প্রথম থেকেই রাজ্য পুলিশের সেই কুৎসিত, পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের সূত্রেই পরবর্তীকালে আমিও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির মুখে পড়েছি। সেই তদন্ত এখনও চলছে। হয়রানি চলছে। হয়ত আরও বাকি। সে আমি লড়েছি, লড়ছি, লড়ব। কিন্তু বৈষম্যমূলক পক্ষপাতদুষ্ট বিবৃতি হজম করতে পারলাম না।” এরপর তিনি লেখেন,অভিযুক্তদের হয়ে কথা বলতে গেলে নিরপেক্ষ থাকা বাঞ্ছনীয়। মুখ্যমন্ত্রী এখনও বন্দি থাকা এক সাংবাদিকের কথা বলেছেন। আমি যতদিন বন্দি ছিলাম, তখন আমার কথা মনে পড়ে নি কেন? একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম নীতি হয় না কি? এখন যিনি বন্দি সাংবাদিক, তাঁর সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য রাখা উচিত নয়।

পোস্টটির শেষে কুনাল ঘোষ লেখেন, “আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে এই পোস্ট করলাম। নিজেকে আজও কঠিন দিনের পরিবর্তনের আন্দোলনের সৈনিক মনে করি।” তবে এখানেই শেষ নয়। পোস্টটির শেষে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুনাল জানান, “যাঁরা আজ তাপস পালের মরদেহে মালা দিয়ে কান্নাকাটি করছেন, নানা স্মৃতিচারণের আদিখ্যেতা করছেন, এঁদের অধিকাংশ সত্যিই অভিনয় করছেন। তাপসদার বন্দিদশার কঠিন দিনে, অন্তত সহকর্মী হিসেবেও যাঁরা যোগাযোগ রাখেন নি, সহমর্মিতা জানান নি, সেইসব সুবিধেবাদী ধান্দাবাজ, মুখোশধারী আজ প্রয়াত তাপসদাকে ঘিরে বাংলার মানুষের আবেগের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রচার ও স্বার্থসিদ্ধি করতে গেছেন। এঁদের জানাই ধিক্কার। তাপসদা দোষী না নির্দোষ, সেই বিতর্কে ওঁদের ঢুকতে হত না। কিন্তু পরিচিত কেউ বিপদে পড়লে খোঁজ রাখাটা মনুষ্যত্বের মধ্যে পড়ে। তাপসদা আইনি বিপদে ছিল, শারীরিক ও মানসিকভাবেও। তখন যাঁরা সরে গিয়েছিলেন, আজ মিডিয়ার সামনে চোখের জল ফেলছেন। ছিঃ।

মঙ্গলবার প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাপস পাল। এরপরেই ফেসবুকে তাঁর স্মৃতিচারণায় একটি পোস্ট করেছিলেন কুনাল ঘোষ। আজ তাঁকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পর ফের সরব হলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here