kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নিজের ফেসবুক পোস্টে অনেক তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদের মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছেন তিনি আগেও৷ এবার তাঁর নিশানায় রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি তথা রাজ্যের বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিত করপুরকায়স্থ৷ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিত করপুরকায়স্থকে নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুনাল ঘোষ৷ অভিযোগের নেপথ্যে সেই সারদাকাণ্ড৷ পোস্টের প্রতি পদে পদে পুরকায়স্থ বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি৷

সোমবার সকালের দিকে নিজের ফেসবুকে সুরজিত করপুরকায়স্থ ও সুদীপ্ত সেনের সারদার কোনও অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন৷ তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “আমি পুলিশকে, কোর্টে, সিবিআইকে বলেছি, কেন সুরজিৎকে গ্রেফতার করা হবে না?” এরপর সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে সুরজিত করপুরকায়স্থর ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন সারদা কাণ্ডে আপাতত জামিনে থাকা কুণাল ঘোষ৷ একথা বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ক’দিন আগে ইকো পার্কে সরকার আয়োজিত শিল্পপতিদের বিজয়া সম্মিলনীর ফাঁকে কয়েকজন পুলিশকর্তা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। সেখানেই প্রসঙ্গক্রমে কুণালবাবুর নাম ওঠে। তা শুনেই নাকি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ বেশ কিছু খারপ বিশেষণ ব্যবহার করেন কুণাল সম্পর্কে। এ কথা কুণালবাবু জানলেন কী করে? ফেসবুক পোস্টে প্রাক্তন সাংসদ জানিয়েছেন, ওই অফিসারদের মধ্যে থাকা একজনই তাঁকে বলে দিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন, “আচ্ছা, ঐ অফিসারটি আপনার উপর এত চটে কেন?”

এরপরই কার্যত নিজের পোস্টে বোমা ফাটান কুণাল৷  কুণালবাবু তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ এই ব্যক্তি যখন রাজ্য পুলিশের আইজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) ছিলেন, তখন তিনি সারদার এজেন্ট সম্মেলনে গিয়ে সারদা ও সুদীপ্ত সেনের ঢালাও প্রশংসা করে বক্তৃতা করেছিলেন। এটা কোনও সাধারণ অনুষ্ঠান ছিল না। এটা সারদার নিজস্ব এজেন্টদের সম্মেলন ছিল। এর থেকে সারদা ইমেজ বাড়িয়েছে, এজেন্টরা উৎসাহিত হয়েছেন। কেন গেছিলেন সুরজিৎ? কেন তারপরেও ব্যবস্থা নেননি?” তিনি আরও লিখেছেন, “আমি পুলিশকে, কোর্টে, সিবিআইকে বলেছি, কেন সুরজিৎকে গ্রেফতার করা হবে না? কেন তিনি সারদাকে প্রমোট করেছিলেন? তাঁরা এসব করেছিলেন বলেই তো পরে আমাদের মিডিয়াসূত্রে কাজের পরিস্থিতি হয়েছিল। কেন ব্যবস্থা নেননি সুরজিৎ? আমি সুদীপ্ত সেনকে পাশে নিয়ে ওঁর ভাষণের ছবি, ভিডিও, সব জমা দিয়েছি। আইপিএসদের নিজস্ব লবির কারণে বহু ক্ষেত্রেই বিষয়গুলি এগোয় না। বুঝতে পারি সব। তবু বারবার চাপ রেখেছি। এসএফআইওর রিপোর্টে ওঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ আছে। আমার আবেদনে কোর্টও ওঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যতই তদন্তে নিষ্ক্রিয়তার খেলা চলুক, আমি বারবার পিটিশন চালিয়ে গেছি।”য

প্রসঙ্গত, এর আগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার ও বিধাননগরের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন কুণালবাবু। তবে এবার যে তারা নিশানায় সরাসরি প্রাক্তন ডিজি তথা নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকবেন সেটা বোধহয় আঁচ করতে পারেনি কেউ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here