নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘রাজ্যের একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ লকডাউন মানছে না। যাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।’ বুধবার ফের এমনটাই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও এদিন ফের একবার সরব হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ‘লকডাউন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেবল একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ লকডাউন মানচ্ছেন না। যাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব জায়গায় পুলিশ কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। সংঘর্ষ চলছে, আমাদের সাংসদদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’

এদিকে দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্যের পরে নবান্ন থেকে পাল্টা বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাস চলছে, কেউ কেউ আছে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করবে। দাঙ্গা যারা বাঁধাচ্ছেন কড়া অ্যাকশন নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে।’ এরপরই ডিএমদের সোস্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, এদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, ‘বিভিন্ন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক সাহায্যের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করছেন? এরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্যাকেজ কোথায়?  শুধু ভাষণ দেওয়াই কি কাজ ওনার?  কেন এত কম সংখ্যক ট্রেন রাজ্য সরকার চাইল কেন্দ্রের কাছে?’

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কাজে আস্থা না থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষের ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল রাজ্য বিজেপি সভাপতি। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘আমার নিজের ধারণা সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে রেল কতটা চালানো সম্ভব ভবিষ্যৎ বলবে। রেলে ওঠার আগে সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত একজন যাত্রীর। তবে মানুষকে নিজেকে সতর্ক হতে হবে তা না হলে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনটেন করা সম্ভব নয়।’

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাঁচবার এর মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মতামত নিয়েছেন। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কারোর মতামত নেন না। কতবার সর্বদলীয় মিটিং করেছেন? তার কাজ শুধু দায় চাপিয়ে দেওয়া আর অন্য লোকদের বলি করা। এখানে মৃত্যুতে এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আর পিছিয়ে রয়েছে টেস্টিং-এ। আসলে মোদীর সমালোচনা করার কোনও সুযোগ পাচ্ছেন না বিরোধীরা। তাই তারা কিছুটা হতাশ।’

দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘আত্মনির্ভর হবার সুযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন দেশকে। গত দুমাস ধরে দেশের মানুষ দেশের জিনিস ব্যবহার করছে, তাই প্রধানমন্ত্রী কুড়ি লক্ষ কোটি টাকা প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এটা খুব ভালো দিক আমাদের আত্মনির্ভর হতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here