নরেন্দ্রপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, মূলচক্রী যুবতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

0
59

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারুইপুর: পরনে ছিল পুলিশের উর্দি৷ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির সময় মাস্টারমাইন্ড দীপার পোশাক ছিল খানিকটা এরকমই৷ যদিও তার সঙ্গী সাথীরা ছিল সাধারণ পোশাকেই৷ গৃহকর্তার কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে অবাধে চলেছিল লুঠপাট৷ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশে্র জালে ধরা পড়ে চার জন৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই গোটা ঘটনার মূল পাণ্ডা দীপার কথা জানতে পারে পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয় ২২ বছরের দীপা মজুমদারকে৷ নরেন্দ্রপুরে পুলিশ সেজে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির নেপথ্যে বছর বাইশের এই যুবতীই নিজের প্রেমিকের সঙ্গে মাথা খাটিয়ে ডাকাতির ছক কষেছিল৷ পুলিশ জানিয়েছে,  এই ঘটনায় দীপার এক প্রেমিক যুক্ত। যদিও ঘটনার পর থেকে সেই যুবক বেপাত্তা।

গত রবিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুরের নেতাজি নগরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় ছজনের এক ডাকাত দল। পরিবারের লোকের দাবি, তিনজনের পরনে ছিল পুলিশের উর্দি, আর বাকি তিনজন ছিল সাধারণ পোশাকে। গৃহকর্তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা, সোনা ও রুপোর গয়না লুঠ করে দুষ্কৃতীরা। এদিকে ঘটনাটি টের পেয়ে আশেপাশের মানুষ  চিৎকার করতে শুরু করলে শূন্যে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পিছু ধাওয়া করে অবশ্য একজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রেজাউল শেখ, মামন শেখ, সবুজ শেখ ও দীপু শর্মা নামে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে প্রথম তিন জন বাংলাদেশের যোগেশগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের বারবার জিঞ্জাসাবাদ করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার মূল চক্রী দীপা মজুমদার। যে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে অর্থাৎ অরুপ দত্তের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল দীপার। অরুপের মা মায়া দত্তকে সে জ্যেঠিমা সম্বোধন করত। জ্যেঠিমাও দীপা অন্ত প্রাণ। পুলিশ জানিয়েছে, মাস কয়েক আগে বাড়িতে অনেক গয়না দেখে দীপা মায়ার কাছে কয়েকটি গয়না চায় বিয়ে বাড়িতে সেজে গুজে যাবে বলে। সরল মনে সেই গয়না দিয়েও দেন মায়া। বিয়ে বাড়িতেই দীপার বর্তমান এক প্রেমিকের সঙ্গে সেই গয়না নিয়ে কথাবার্তা হয় দীপার।

দীপা জানায়, দত্ত বাড়িতে চুরি বা ডাকাতি করতে পারলে প্রচুর গয়না পাওয়া যাবে। তখন তার প্রেমিক কুখ্যাত বাংলাদেশি ডাকাত রেজাউলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর রেজাউল, দীপা ও তার প্রেমিক মিল বেশ কয়েকবার মদ্যপান সহযোগে মিটিং করে এবং অরুপ দত্তের বাড়িতে ডাকাতির ছক কষে নেয়। যদিও ডাকাতির আগেই ওই বাড়ির একটি পুজোর অনুষ্ঠানে দীপা, তাঁর প্রেমিক ও ডাকাত গিয়ে গোটা এলাকা রেইকি করে এবং ঘরের জিনিসপত্র, ঠাকুরের গায়ে বিপুল গয়না দেখে এসে। এরপর ছক মারফৎ নির্দিষ্ট দিনে ডাকাতি হয় নেতাজী পল্লীতে। পুলিশের পোষাক পরে প্রায় ঘণ্টাখানেক অপারেশন সারে ডাকাত দল। যদিও সেই রাতেই জনতার হাতে একজন ডাকাত ধরা পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুড়িগাছি এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা দীপাই ডাকাতির মূল মাস্টার মাইন্ড। এই ঘটনায় দীপার এক প্রেমিক যুক্ত। যদিও ঘটনার পর থেকে সেই যুবক বেপাত্তা। তাই তাঁর নাম ধাম এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না পুলিশ। দীপা গ্রেফতার হওয়ার পরই নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে পুলিশের হাতে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি এসেছে। আশা করছি বাকিদের খুব তাড়াতাড়ি আমরা গ্রেফতার করতে পারবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here