অধ্যাপিকার আত্মহত্যায় তীব্র চাঞ্চল্য সিউড়িতে! গ্রেফতার প্রেমিক

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: কথা ছিল রাখব যতনে, থাকব এক সঙ্গে। জীবনভর দিনযাপন হবে একই সঙ্গে। সেই প্রতিশ্রুতিতেই একে অপরের কাছে আসা। একসঙ্গে ওঠা, বসা, শোয়া। সেই পথই মিলিয়েছিল দুই শরীরকে। হারিয়ে গিয়েছিল তারা একে অন্যের গহণে। তবুও শেষে ঘটল না তাদের সামাজিক মেলবন্ধন। অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাকে বাঁধা পড়ল না তারা। একে অন্যের থেকে প্রতারণার শিকার হয়ে চির কালের মতো দূরে চলে গেল একজন। রেখে গেল একগুচ্ছ প্রশ্ন! কেন এই প্রতারণা? কেন শরীর নিয়ে মন নিয়ে এহেন ছেলেখেলা? নারী কি আজও শুধুই ভোগ্যা?

বীরভূম জেলার সদর শহর, সিউড়ি। সেই শহরেরই পশ এলাকা হল ডাঙালপাড়া। সেখানেই বাড়ি শুভ্রা মণ্ডলের(২৫)। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজে পড়তে পড়তে আলাপ হয়েছিল দুইজনের। শহরের পাশেই কড়িধ্যা গ্রাম। সেখানকারই ছেলে সুমন চট্টোপাধ্যায়। দুইজনেরই ভালো লেগেছিল দুইজনকে। তাই কাছে আসতে কিংবা মেলামেশা বাড়াতে সময় বেশি নেয়নি দুইজনে। কলেজের পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাত্তকত্তরের পাঠ শেষে সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজেই জিওলোজি ডিপার্টমেন্টে আংশিক সময়ের অধ্যাপনার কাজে ঢুকে গিয়েছিল শুভ্রা।

স্বপ্নটা আগে থেকেই ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন আরও শক্ত বুনট পেয়েছিল। সুমনকে নিয়েই ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল শুভ্রা। কিন্তু অভিযোগ, সুমন শুভ্রার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করলেও তাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না সুমন। আর তা নিয়েই দুইজনের প্রায়ই বিবাদ ঘটত। রবিবার সন্ধ্যাতেও দুইজনের ঝগড়া হয়েছিল মোবাইলে। আর রাতেই শুভ্রার ঘরে পাওয়া যায় তার ঝুলন্ত দেহ। খবর যায় সিউড়ি থানায়। সেখান থেকে পুলিশ এসে তার দেহ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পাশাপাশি সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের হয় অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার রাতেই গ্রেফতাঁর হয় সে। সোমবার তাকে সিউড়ি সদর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে দুই দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠান।

kolkata bengali news

শুভ্রার পরিবারের অভিযোগ, সুমন শুভ্রার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করলেও বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। বিয়ের কথা বললেই সুমন তাদের দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। সম্প্রতি শুভ্রার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছিল। তারপর থেকেই শুভ্রা মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে।

রবিবার রাতে খাওয়ার পর নিজের ঘরে চলে যায় শুভ্রা। পরে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় বাড়ির লোকেদের সন্দেহ হয়। দরজা খুলে শুভ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পাশেই রাখা ছিল তার মোবাইল। দেখা যায়, আত্মঘাতী হওয়ার আগের মুহুর্তের ছবি সুমনকে পাঠিয়ে বিয়ের করার জন্য অনুরোধ করেছিল সে। কিন্তু সুমন তাতেও রাজি না হওয়ায় চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় শুভ্রা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here