মহানগর ওয়েবডেস্ক: শেক্সপিয়ার সরণিতে জাগুয়ার-মার্সেডিজ দুর্ঘটনার তদন্তভার এবার নিজেদের হাতে তুলে নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা এই ঘটনার তদন্ত করবে। লালবাজার সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখতে এদিন রাতেই শেক্সপিয়ার সরণিতে উপস্থিত হতে পারেন কলকাতা পুলিশের লালবাজার বিভাগের প্রধান মুরলীধর শর্মা। তদন্তের প্রয়োজনে গোটা ঘটনার পুনর্নিমাণও করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকালই দক্ষিণ কলকাতায় জাগুয়ারকাণ্ডে গাড়িচালক আর্সালান পারভেজের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগের ধারা যোগ করে পুলিশ৷ মধ্যরাতে সেই দুর্ঘটনার একদিন পরেই পারভেজকে আদালতে পেশ করা হয়৷ আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা যোগ করার আবেদন জানায় পুলিশ৷ বিচারকের অনুমতি পেয়ে অতিরিক্ত ধারা হিসেবে ৩০৮ যুক্ত করে পুলিশ৷ সরকারি যন্ত্রপাতি ধ্বংস করার কারণে পিডিপিপি অ্যাক্টের সেকশন থ্রি যুক্ত করা হয় পারভেজের বিরুদ্ধে৷ ফলে এই মামলায় জামিন পাওয়া আরও কঠিন হল কলকাতার বিখ্যাত বিরিয়ানি রেস্তোরার কর্ণধারের পুত্র আরসালান পারভেজের বিরুদ্ধে৷

শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে৷ একাংশের মতে জাগুয়ার গাড়িটি ধাক্কা মেরেছিল উল্টোদিক থেকে আসা মার্সিডিস বেঞ্চকে৷ যার ফলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ট্রাফিক কিয়স্কে ধাক্কা মারে মার্সিডিসটি৷ সঙ্গে ধাক্কা মারে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে৷ তবে অনেকে এটাও মনে করছে, জাগুয়ার গাড়িটিই সরাসরি ধাক্কা মেরেছিল কিয়স্ক ও তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ২ বাংলাদেশিকে৷ তাহলে প্রশ্ন উঠছে মার্সিডিসটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হল৷ তাদের ব্যখ্যা জাগুয়ারটি প্রথমেই ধাক্কা মেরেছিল মার্সিডিসকে, পাল্টি খেয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে সরে যায়৷ এরপরই জাগুয়ারটি ধাক্কা মারে কিয়স্কে৷ দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যায় আরসালান পারভেজ৷ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তার বেকবাগানের বাড়ি থেকে পারভেজ গ্রেফতার করে পুলিশ৷

পুলিশের অনুমান জাগুয়ারের ধাক্কার জেরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মার্সিডিসটি ধাক্কা মারে ট্রাফিক কিয়স্কে৷ তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই সঠিক কী হয়েছিল তা জানা যাবে, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ৷ রবিবার আরসেলান পারভেজকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে৷ সেখানে ২৯ অগাস্ট পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here