news bengali kolkata
Highlights

  • হরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এসি রোড থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ
  • আগামী ৯ই মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত
  • দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ল বড়সড় প্রতারণা চক্রের অন্যতম চাঁই। ধৃত সন্তোষ হাজরা মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বাসিন্দা। মূলত সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ায় নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করত বলে অভিযোগ। প্রায় ছয় মাস ধরে পলাতক ছিল সন্তোষ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বহরমপুরের ইন্দ্রপ্রস্থ এসি রোড থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতকে বুধবার আদালতে তোলা হলে আগামী ৯ই মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত বছরের ২১শে আগস্ট উল্টোডাঙ্গা থানায় মিঠুন বিশ্বাস নামে বহরমপুরের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চাকরি পাওয়ার আশায় এক ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ায় নাম করে তাঁর থেকে টাকা নেওয়া হয়। এমনকি চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রতারকদের চিনতে না পেরে বিশ্বাস করে ফেলেন অভিযোগকারী মিঠুন বিশ্বাস। কিন্তু সময় গড়ালে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ পেয়ে প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে উল্টোডাঙ্গা থানার পুলিশ। পরবর্তীকালে তদন্তভার হাতে নেয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তভার হাতে নিয়ে এই মামলায় আগেই অসিত কুমার দাস, জগন্নাথ খান এবং দীপক আগারওয়াল নামে তিনজনকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তিনজনেই বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে। তবে ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, এই চক্রের আরও একজন প্রতারকের অন্যতম পাণ্ডার নাম। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সন্তোষ। দীর্ঘ ছয় মাস ফেরার থাকার পর অভিযুক্ত এলাকায় ফিরেছে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, মুর্শিদাবাদ রওনা দেন লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ বাড়ির কাছ থেকেই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সন্তোষ হাজরা অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীকে এভাবেই প্রতারিত করে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেছে। এদিন ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের কভার ফাইল উদ্ধার করে পুলিশ। যেখান থেকে পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের চাকরি জন্য আবেদন করা চাকরিপ্রার্থীর এডমিট কার্ডের ফটোকপি এবং চাকরিপ্রার্থীদের নামের নামের একটি দীর্ঘ তালিকা। ওই তালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীরাও তার কাছে প্রতারিত হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃত সন্তোষ হাজরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার নাম করেও অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে, তদন্তে নেমে জানতে পারে পারেন গোয়েন্দারা। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়। দু’পক্ষের আবেদন খতিয়ে দেখে ধৃতকে ৯ই মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here