ডেস্ক: কৃষিজমি রক্ষার্থে রাজ্য তথা গোটা দেশে সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর যার জ্বলন্ত উদাহরণ। সেই ঘটনার পর এবার আরও বড় আন্দোলনের সাক্ষী হতে চলেছে মোদী রাজ্য গুজরাত। একদা গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি শাসিত গুজরাতে এখন মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন বিজয় রূপানি। তাঁর রাজ্যে কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে জমি দিতে নারাজ কৃষকেরা। জমি লোলুপদের বিষ নজর থেকে জমি রক্ষা করতে এবার একযোগে ৫ হাজার কৃষক ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন পাঠালো সরকারের কাছে। এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল গুজরাতের ভাবনগর জেলা।

এ প্রসঙ্গে ভাবনগর জেলার কালেক্টর হর্ষদ প্যাটেল জানান, ‘কৃষকদের পক্ষ থেকে কালেক্টর অফিসে ইচ্ছামৃত্যুর দাবীতে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। যে চিঠিতে কৃষকদের অভিযোগ, ২০ বছর ধরে যে জমিতে তাঁরা চাষ করে আসছেন তা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে চাইছে গুজরাত কর্পোরেশন লিমিটেড। তাঁদের আরও অভিযোগ, কৃষকদের উচ্ছেদ করতে পুলিশকে কাজে লাগাচ্ছে সরকার।’

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক নরসিং গোহিল জানান, ‘যদি জোর করে কৃষকের জমি কেড়ে নেয় গুজরাত সরকার ও গুজরাত কর্পোরেশন লিমিটেড সেক্ষেত্রে ইচ্ছামৃত্যুর রাস্তা বেছে নেবেন রাজ্যের ১২ টি জেলার ৫ হাজার ২৫৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার। এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে কালেক্টর অফিসে যে চিঠি ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।’ তাঁর আরও দাবি, ‘২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, যে জমি ৫ বছর ধরে অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারে না কোনও কোম্পানি। সরকারের তরফে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ছে। জেলা প্রশাসনের তরফে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে রাখা হয়েছে। চাষ করে যদি খেতে না পারি তবে মৃত্যু ভাল। যেভাবে আমাদের উপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আমরা সন্ত্রাসবাদী এবং সেনাবাহিনীকে দিয়ে আমাদের হওয়া করার চেষ্টা চলছে এর চেয়ে মৃত্যু ভাল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here