national news

Highlights

  • মারা গেল অসমের উমানন্দ মন্দিরের শেষ সোনালি হনুমান
  • ৩৬ বছর আগে পিকক দ্বীপে সোনালি হনুমান নিয়ে আসা হয়েছিল
  • পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন বানরের প্রজাতি হল এই সোনালি হনুমান

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মারা গেল অসমের উমানন্দ মন্দিরের শেষ সোনালি হনুমান (Golden Langur)। আর সেই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের পিকক দ্বীপ থেকে অবলুপ্ত হয়ে গেল অতিবিরল এই বানর প্রজাতি। মাত্র ৩৬ বছর আগে ওই দ্বীপে এই সোনালি হনুমান নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই একটা দ্বীপ থেকে গোটা প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পরিবেশবিদদের কপালে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন বানরের প্রজাতি হল এই সোনালি হনুমান। পৃথিবীতে মাত্র ভারত ও ভুটানেই এই হনুমান দেখা যায়। শেষ গণনা অনুযায়ী দুই দেশ মিলিয়ে আর মাত্র ৫৫০০টি সোনালি হনুমান বেঁচে আছে। এরমধ্যে ১৫০০টি ভারতে। ১৯৮৪ সালে অসমের এই উমানাথ মন্দিরে একজোড়া সোনালি হনুমান ছাড়া হয়। যদিও কে এখানে ওই দুটি হনুমানকে ছাড়ে, তা নিয়ে সঠিক কোনও তথ্য নেই। ১৯৯০ সালে ওই দুটি হনুমান একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ওই দ্বীপে সোনালি হনুমানের সংখ্যা। কয়েক বছরের মধ্যেই ওই মন্দিরে সোনালি হনুমানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি।

কিন্তু শেষ কয়েক বছর ধরে ক্রমেই কমতে শুরু করে ওই বিরল হনুমানের সংখ্যা। একটি হনুমান কুকুরের কামড়ে মারা যায়। অজানা রোগের কারণে মারা যায় আরও বেশ কয়েকটি। পরপর বেশ কয়েকটি সোনালি হনুমান মারা যাওয়ার পরেই অসম স্টেট চিড়িয়াখানাকে খবর দেওয়া হয়। তারা মোট ছটি হনুমানকে সরিয়ে নিয়ে যায়। শেষমেশ ‘গোবিন্দ’ নামে একটি হনুমানই সেখানে ছিল।

শেষ দুই বছর ধরে ওই মন্দিরে একমাত্র সোনালি হনুমান পুণ্যার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু দিনদিন একাকিত্বে ভুগতে শুরু করে গোবিন্দ। বাড়ছিল বয়সও। আবার পরিবেশবিদদের দাবি ওই মন্দির চত্বরে ঠিকঠাক খাবারও পাচ্ছিল না গোবিন্দ। সেই কারণে ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পরে সে। শেষমেশ কয়েকদিন আগে মারা যায় গোবিন্দ। এই প্রসঙ্গে অসমের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যারা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে, তাদের প্রধান দিলীপ ছেত্রী জানান, ‘এটা আমাদের জন্য বিরাট এক ক্ষতি। যদি সরকার ঠিকঠাক পদক্ষেপ গ্রহণ করত তাহলে পিকক দ্বীপ থেকে সোনালি হনুমান অবলুপ্ত হয়ে যেত না।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here