হাওড়ার ঘটনায় আইনজীবীদের কর্মবিরতি বর্ধমান আদালতেও, সংকটে টাইপিষ্ট, ল-ক্লার্ক, স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা

0
21
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতের প্রায় ৬০ জন টাইপিষ্ট, ৬০০ জন ল-ক্লার্ক তথা মুহুরী, ৩৯ জন স্ট্যাম্প ভেন্ডার, ৭জন নোটারী আইনজীবী এবং ৩জন ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার। গত ২৪ এপ্রিল হাওড়া আদালতের আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পরের দিন থেকেই শুরু হয় গোটা রাজ্য জুড়ে আইনজীবীদের আন্দোলন। এই ঘটনায় দোষী পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারই জেরে গত ২৫ এপ্রিল থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবীদের এই কর্মবিরতির জেরে রীতিমতো আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বর্ধমান আদালতের টাইপিষ্ট, মহুরী তথা ল-ক্লার্ক এবং স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত আইনজীবীদের এই কর্মবিরতি না উঠলে তারা কার্যত না খেতে পেয়েই মারা যাবেন।

বর্ধমান জেলা কোর্ট টাইপিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গৌরীশংকর ঘোষ জানিয়েছেন, আইনজীবীদের এই কর্মবিরতির জেরে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে কোনে রোজগার নেই। স্ট্যাম্প ভেণ্ডার কৃষ্ণা ব্যানার্জী জানিয়েছেন, কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে স্ট্যাম্প পেপার বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। তারা চাইছেন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। বর্ধমান আদালতের মুহুরী পারমিতা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মুহুরীর কাজের ওপর তাদের সংসার নির্ভর করছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে সংসার চালানোই কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। টাইপিষ্ট প্রদীপ ব্যানার্জ্জী জানিয়েছেন, দিন আনি খাই-এর মত করেই তাদের জীবন চলে। প্রতিদিনের রোজগারের ওপর তাদের সংসার চালাতে হয়। গত কয়েকদিনে চার ভাগের এক ভাগ আয়ও হচ্ছে না।

তবে পশ্চিমবঙ্গ ল-ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক প্রণয় মিত্র জানিয়েছেন, আইনজীবীদের সম্মান ফিরে আসা জরুরী। কারণ উকিলবাবুদের ওপরই তাদের জীবিকা নির্ভর করে। তাই তারাও এই আন্দোলনে উকিলবাবুদের সঙ্গে রয়েছেন। তিনিও স্বীকার করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সত্যিই সমস্যায় রয়েছেন মুহুরীরা।

নোটারী আইনজীবী আশীষ দাস জানিয়েছেন, আইনজীবীদের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। সেই সম্মান ফিরে আসার জন্যই এই আন্দোলন চলছে। সেক্ষেত্রে অনেকের সমস্যা দেখা দিলেও বৃহত স্বার্থে এটা সকলেই মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে, যতক্ষণ না দোষী পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা। তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে পুলিশ দুর্নিবার হয়ে উঠেছেন তাতে একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজীর সৃষ্টি না হলে ভবিষ্যতে পুলিশ আইনজীবীদের এজলাসে ঢুকেও অত্যাচার চালাবে। সদনবাবু স্বীকার করেছেন, টাইপিষ্ট, মুহুরী সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই এই কারণে অসুবিধায় পড়েছেন। তবে তারা আশা করছেন নিশ্চয়ই সম্মানজনক একটি সিদ্ধান্ত নেবে বার কাউন্সিল। তারা সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here