kolkata bengali news

ডেস্ক: বাম ছেড়ে ‘রাম’ ঘুরে এবার ‘হাত’ ধরছেন লক্ষ্মণ শেঠ। লোকসভা ভোট মরসুমেই রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন তমলুকের এই একদা বেতাজ বাদশা। মনে করা হচ্ছে, তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হতে পারে তাঁকে। তবে এই নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

২০১৪ সালেই তাঁকে বাইরের দরজা দেখিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সিপিএম। এরপর বেশ কিছুদিন চুপচাপ ছিলেন, শেষে ২০১৬ সালে সদলবলে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সেখানেও বিশেষ মানিয়ে উঠতে পারেননি লক্ষ্মণবাবু। গতবছরই নিজের অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে দল ছাড়েন লক্ষ্মণ শেঠ। মনে মনে ইচ্ছা ছিল, শাসকদলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার। তিনি সেই পথে কাঁটা বিছিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। যার বিরুদ্ধে লড়াই করে তমলুক দখল তাঁকেই আবার দলে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না শুভেন্দু। বিশেষ করে লক্ষ্মণ শেঠের নাম কঙ্কাল কাণ্ডে জড়িয়ে থাকায় শুভেন্দু কখনই চাননি তৃণমূলে যোগ দেন বামেদের ডাকসাইটে এই নেতা।

সুতরাং শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প হিসেবে বাকি ছিল লক্ষ্মণের কাছে। আর সেখানেই গিয়ে বসলেন তিনি। অন্যদিকে রাজ্যে চেনা মুখদের প্রার্থী করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেসও। এই অবস্থায় দলবদলের বাজারে লক্ষ্মণ জার্সি বদল করে তমলুকের টিকিটও প্রায় পাকা করে ফেলেছেন। তবে লক্ষ্মণ শেঠের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে দলের অন্দরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। একাধিক মামলায় জড়িয়ে থাকা লক্ষ্মণের ভাবমূর্তি যে মানুষের কাছে মোটেও ইতিবাচক নয় সেই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহল। আর সেই কারণেই তাঁকে দলে সামিল করার আগ্রহ দেখাননি আব্দুল মান্নানরা। কিন্তু মান্নান বিরোধী গোষ্ঠী আবার চেয়েছিলেন কংগ্রেসে সামিল হন লক্ষ্মণ।

সবমিলিয়ে চাপ বাড়ছিল কংগ্রেসের উপর। শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে সামিল করার পাশাপাশি টিকিটও দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল প্রদেশ কংগ্রেস।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here