নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: দলের অন্দরে জেলায় যে রদবদল ঘটেছে সেটা আর কারও অজানা নয়। সেই কারনেই জঙ্গলমহলের দক্ষিনতম প্রান্তের এই জেলায় এখন তাই যেন ঝড় ওঠার ঠিক আগের মুহুর্তের মত আপাত শান্ত পরিবেশ। যদিও সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আপাত শান্তি চেহারায় যে ব্যাপক বদল ঘটে যেতে পারে সেই আঁচ এখন থেকেই পাচ্ছেন রাজনীতিতে পোড় খাওয়া মানুষজন। বিশেষ করে পদ বিতরণের ক্ষেত্রে মাহাতো সম্প্রদায়ের নেতারা যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছেন কালিঘাটে তা এখন অনেকেই খুব একটা সুনজরে দেখছেন না। বিশেষ করে অ-মাহাতো শ্রেনীর আদিবাসি নেতারা গোটা বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বলেই শোনা যাচ্ছে। যদিও কেউই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে পদ হারানো নেতারা ও তাদের অনুগামীরা অনেকেই তলে তলে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেই শোনা যাচ্ছে। আর এখানেই সুযোগ খুঁজছে পদ্ম শিবির।

জঙ্গলমহলে উন্নয়ন করা সত্বেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের আশানুরূপ ফল না হাওয়ায় যথেষ্ট চাপে শাসকদল। তারই জেরে ঝাড়গ্রাম জেলায় পরিবর্তন করা হয়েছে জেলায় পাঁচটি ব্লকের দলীয় সভাপতিদের। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠকে মজবুত করার লক্ষে এই সিদ্ধান্ত বলে ঘাসফুল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম সহ বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায় শাসকদলের আশানুরুপ ফল না হওয়ায় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকহারে রদবদল করা হয়েছে। এমনকি দুবার ঝাড়গ্রাম জেলায় শাসক দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই তিনি আগাম বার্তা দিয়েছিলেন যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই ঘোষণা মাফিকই নতুন পদাধিকারীদের নিয়ে আসা হয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে।

জেলার মোট আটটি ব্লকের মধ্যে পাঁচটি ব্লকের ব্লক সভাপতিকে সরিয়ে নতুনদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। যারা আগে ছিলেন, সাঁকরাইল ব্লকের ব্লক সভাপতি তপন পট্টনায়েক, তার জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে সোমনাথ মহাপাত্রকে। বিনপুর-১ ব্লকের ব্লক সভাপতি ছিলেন বনবিহারী রায়, তার জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে শ্যামল মাহাতোকে। বিনপুর-২ ব্লকের সভাপতি ছিলেন বংশিবদন মাহাতো, তার জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে বুবাই মাহাতোকে। জামবনীর ব্লক সভাপতি ছিলেন জগদীশ মাহাতো, তাকে পরিবর্তন করে নিয়ে আসা হয়েছে নিশিথ মাহাতোকে। ঝাড়গ্রামের ব্লক সভাপতির পদে ছিলেন অনিল মন্ডল, তার জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ মাহতোকে। তবে যারা সরলেন তাদের দলের কোর কমিটিতে আনা হবে বলে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এটাও জানা গিয়েছে, নয়াগ্রাম ব্লকের ব্লক সভাপতির পদ থেকে বিধায়ক দুলাল মুর্মুকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নতুন ব্লক সভাপতির নাম ঘোষনা করা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here