মোদীকে সামনে পেয়ে কি এনআরসি বিরোধিতা ভুলে গেলেন মমতা? প্রশ্ন বাম-কংগ্রেসের

0
874
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এনআরসি বিরোধিতাই এই মুহূর্তে অন্যতম হাতিয়ার তাঁর। অমিত শাহ যতই সুর চড়ান না কেন, বাংলায় এনআরসি করতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরই এনআরসি প্রসঙ্গে বেশি কথা বাড়ালেন না মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুধবার দিল্লিতে দাঁড়িয়ে যখন এনআরসি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন অল্প কথায় জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এনআরসি অসমের বিষয়। চুক্তি অনুযায়ী ওখানে এনআরসি হয়েছে। বাংলায় হওয়ার প্রশ্ন নেই।’

মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও গোটা ইস্যুতে তাঁর আক্রমণের তেজ হারিয়ে যাওয়ায় অবাক করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাকি বিরোধীদের। বঙ্গে এনআরসি না করার বিষয়ে তৃণমূল ও বাম কংগ্রেস মিলে বিধানসভায় সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব পাশ করে। এতকিছুর পর মমতা দিল্লি গিয়ে কীভাবে সুর পাল্টে ফেললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দিনকয়েক আগেও সিঁথি মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত পথ পায়ে হেঁটেছিলেন তিনি। এই এনআরসির বিরোধিতা করেই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুমকি দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হলে প্রায় দু’কোটি লোকের নাম বাদ পড়বে। মমতা সেই পদযাত্রা থেকেই পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, বাংলায় ২ কোটি তো দূরের কথা, আগে ২ জনের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে অসমে এনআরসির খসড়া বের হওয়ার পর তাতে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়েও সরব হয়েছিলেন মমতা। শিলচরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলও পাঠান। কিন্তু, এতকিছুর পর বিরোধিতার ঝাঁজটা কেমন যেন ফিকে হয়ে গেল।

এই নিয়ে বাম-কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সওয়াল তোলা হচ্ছে, রাজ্যের মানুষের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে কী করে ভুলে গেলেন মমতা? বিশেষ করে তিনি যেভাবে বিরোধিতা করেছিলেন, তাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা হবে বলেই নিশ্চিত ছিলেন বাম ও কং নেতারা। এদিনের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ জায়গা না পাওয়ায় যথেষ্ট হতাশ বাম ও কগ্রেস শিবির। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর ক্ষোভ, কদিন আগেও রাজ্যে বললেন ২ জনকেও বার করতে দেব না। আর দিল্লিতে গিয়ে ভুলে গেলেন?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here