kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বহরমপুর: সে অনেক দিন আগেকারই কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন সবে সবে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের পাশাপাশি কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের বামপ্রীতি মনোভাব দেখে দিদি সেদিন কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে হেঁকেছিলেন, ‘সিপিএমের বি-টিম’ বলে। তারপর বামবঙ্গের গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বামদের হটিয়ে মহাকরণের মসনদে বসেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা বাংলার সর্বজনীন দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেও প্রায় এক দশক হতে চলল। তবে প্রায় দুই দশক আগেকার মমতা বচনের প্রসঙ্গটি কিন্তু এখনও চূড়ান্ত ভাবে প্রাসঙ্গিক।

এ বাংলার কংগ্রেস যে আজও সিপিএমের বি-টিম, তার একটা ভাল নমুনা উঠে এল চলতি লোকসভা নির্বাচনে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের কান্দিতে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হয়ে প্রচার মিছিল বার করল বামেরা। বামবঙ্গে যা ছিল পর্দার আড়ালে সেটা প্রকাশ্যে এসেছিল ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের মধ্যে দিয়ে। এবারে যেন শরীরের শেষ সুতাটাও খসে পড়ল।

অধীররঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে বামেদের সখ্যতা নতুন কোন ঘটনা নয়। বাম জমানাতেই বারংবার এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যা দেখে এটা মনে হতেই পারে যে অধীরের সঙ্গে বামেদের কোন বোঝাপড়া আছে। বস্তুত সেই সব ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কিছু কম সরব হয়নি। তবে দিদিকে হঠাতে আদর্শবাদী বামেরা বুর্জোয়া কংগ্রেসের হাত ধরতে বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধটুকুও করেনি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। তাতে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। উল্টে কংগ্রেসি ভোটব্যাঙ্কের একটা অংশ তৃণমূলে চলে যায়। নিঃশব্দ এই সুইং আদতে দিদির আসন বাড়েতে অনুঘটকের কাজ করে দিয়েছিল। সেই নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া তো দূরের কথা প্রদেশ কংগ্রেস মমতা বিরোধীতায় আজও বামেদেরই বেশি বন্ধু বলে মনে করে। অনেকে বলতেই পারেন, রাজনীতিতে শত্রুর শত্রু হল পরম মিত্র। কিন্তু সেই মিত্রতা করার আগে দুই তরফের লাভ-লোকসানটাও তো দেখে নেওয়া উচিত। বাম ও কংগ্রেস এখন এটাই এই বাংলায় ভুলে গিয়েছে বলেই মনে হয়।

এবারে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বামেদের পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফেও একট চেষ্টা করা হয়েছিল ২০১৬’র মতই একটা জোট বা আসন সমঝোতা করে ফেলতে দুই দলের মধ্যে। যাতে বিজেপিকে ঠেকানোর পাশাপাশি মমতা বিরোধীতার ভোটটাও যেন চেটেপুটে খাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

রাজ্যের প্রায় ৯০শতাংশ আসনেই বাম ও কংগ্রেস শিবির পৃথক পৃথক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। হাতেগোনা ৩-৪টি আসনে মুখরক্ষার একটা সমঝোতা করা হয়েছিল, যেগুলি বাম বা কংগ্রেসের জেতা। সেখানে জয়ী পক্ষকেই আসন ছেড়ে দেওয়ার রফা বার হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর লোকসভা আসনটিও তার মধ্যে একটি। সেখানে অধীররঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বামেরা প্রার্থী দেবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বামফ্রন্টের তরফে। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলা আরএসপি সেই আত্মসমর্পণ মানতে পারেনি। তারা ঈদ মহম্মদকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে তাদের প্রার্থী করে। কিন্তু সেই পদক্ষেপকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে শুক্রবার বামেরা বিছিল বের করে ফেললো অধীরের সমর্থনে। এতে কার লাভ কার ক্ষতি সে তো ২৩শে মে বোঝা যাবে।

কিন্তু এটা বুঝতে আর কারও বাকি নেই যে বাম-কংগ্রেসের মধুচন্দ্রিমা এখনও শেষ হয়নি। আগামি দিনেও দেখা যাবে এই দৃশ্য। আর এখানেই জিতে গেলেন দিদিমণি। সিপিএমই ফের প্রমাণ করুইয়া দিল বাম-কংগ্রেস মিত্ররা মরিয়াও মরে নাই। কংগ্রেস আদ্যোপান্ত সিপিএমেরই বি-টিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here