বেকারদের কাজ চাই, নাহলে মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাতা চাই! সিঙ্গুরে শ্লোগান তুলল বামেরা

0
46
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, চন্দননগর: সব কিছু শেষ হয়েও যেন শেষ হচ্ছে না সিঙ্গুরে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমি ফেরত পেয়েও তা চাষ করার উপযুক্ত না হওয়ায় তথাকথিত অনুচ্ছুক চাষীদের মনে হতাশার বীজ অঙ্কুরোদগম হতে শুরু করেছে‌। সেই ক্ষোভকে নিজেদের দিকে টানতে আগে থেকেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি‌‌। পিছিয়ে থেকেও পুনরায় সেই সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে সেখানকার মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে আরও একবার ঘুরে দাড়াতে চাইছে বামফ্রন্ট। তাই বামফ্রন্টের ছাত্র, যুব সংগঠনের তরুন তুর্কীদের ময়দানে নামিয়ে হারানো জমি পুনুরুদ্ধারে নেমেছে বামফ্রন্ট। সিঙ্গুরের মাঠে নেমেই তারা শ্লোগান তুলেছে, ‘কম খরচে পড়ুক সবাই, বেকারদের কাজ চাই, না হলে ,ছয় হাজার টাকা মাসিক ভাতা চাই।।’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ন’দফা দাবিতে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই সহ বারোটি বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনের ডাকে ১২ই সেপ্টেম্বর শুরু হবে সিঙ্গুর থেকে নবান্ন পদযাত্রা। পরের দিন ১৩ই সেপ্টেম্বর সেই মিছিল পৌঁছাবে নবান্নে। সেই অভিযানকে সফল করতে আগাম কর্মসূচী হিসাবে সিঙ্গুরের বিভিন্ন গ্ৰামে গ্ৰামে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন‌ ও মানুষের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে তরুণ বামপন্থীরা।

বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠনের তরফে থেকে সিঙ্গুরের গ্ৰামের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা সমীক্ষাপত্র পূরণ করা হচ্ছে যা তুলে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারকে। শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচী। শনিবার সকালে সিঙ্গুরের টাটা প্রজেক্ট লাগোয়া বেড়াবেড়ি, খাসেরভেড়ির বিভিন্ন গ্ৰামের মানুষদের সঙ্গে জনসংযোগ করতে দেখা গেল বাম সংগঠনের ছাত্রছাত্রীদের। রবিবার অবধি চলবে এই কর্মসূচী। সিঙ্গুরের বিভিন্ন গ্ৰামে রাত কাটিয়ে সেখানকার মানুষরা কি চাইছেন, তারা কতটা যন্ত্রনার মধ‍্যে আছেন, এখনও কি তারা শিল্প চাইছেন, নাকি কৃষি নিয়েই থাকতে চাইছেন, নাকি কৃষিকে বজায় রেখে শিল্প চাইছেন, এই সব নানান বিষয় নিয়ে মানুষের মতামত চাওয়া হচ্ছে। সেই হিসাব তারা পৌঁছে দেবেন নবান্নে। ডিওয়াইএফআই’র রাজ‍্য সম্পাদক সায়নদ্বীপ মিত্র সহ সংগঠনের সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জী, এসএফআই জেলা সম্পাদক অমৃতেন্দু সহ একাধিক সদস্যরা তিনটে ভাগে ভাগ হয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন‌। তাদের সুখ দুঃখের কথা জানতে চাইছেন।

ডিওয়াইএফআই রাজ‍্য সম্পাদক সায়নদ্বীপ মিত্র জানালেন, ‘ভোট পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সারদার পাঁচশো কোটি দিয়ে মাষ্টারমশাই ঠিক করেছেন মুখ‍্যমন্ত্রী। কিন্তু উনি পাশ করতে পারবেন না। পশ্চিমবঙ্গের জনগন তাকে টিসি দিয়ে দিয়েছে। জনগনের জীবনের অভিজ্ঞতার শিক্ষা নিতেই আমরা তিনদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। এগারো বছর আগে সিঙ্গুরের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল। এখন সিঙ্গুরের মানুষ সেই প্রতারণার হিসাব চায়। সিঙ্গুরের মানুষের সেই কথা চার্জশিট হিসাবে আমরা নবান্নে মুখ‍্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব। আমরা চাই সিঙ্গুরের মানুষের এই চার্জশিট হাতে নিয়ে জনগনের আদালতে যারা প্রতারণা করেছেন, নবান্নে যিনি আছেন সেই মুখ‍্যমন্ত্রীর বিচার হোক।’

যদিও বামেদের এই কর্মসূচীকে এদিন পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেন, ‘কয়েক বছর আগে তৎকালীন মুখ‍্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও শিল্পমন্ত্রী নিরুমপ সেন সিঙ্গুরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। এখন যারা বলছে তারা তখন ছোট ছিল। তারা তখনকার দিনে কি ঘটনা ঘটেছিল তা জানে না। তাই এসব বলছে‌। সিঙ্গুরের মানুষ এখনও মমতা ব‍্যানার্জীর সঙ্গেই আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here