aaa

ডেস্ক: চলে গেলেন বাংলা লোকগানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অমর পাল। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দুই বাংলার সঙ্গীত ও সংস্কৃতিজগৎ। বাংলা লোকসঙ্গীতে তাঁর অবদান ভোলার নয়, জানিয়েছেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীরা। তাঁর মৃত্যু ‘অপূরণীয় ক্ষতি’, শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

বিশিষ্ট লোক ও গণসঙ্গীত শিল্পী কঙ্কন ভট্টাচার্য বলেছেন, একজন সঙ্গীতশিল্পী তো বটেই, একই সঙ্গে একজন শিক্ষক হিসেবেও অমর পালের স্থান অতি উচ্চে। বহু শিল্পী তৈরি করেছেন তাঁর হাতে ধরে। তিনি পূর্ববঙ্গের মানুষ ছিলেন এবং স্বাধীনতার সময়কালেই এ বাংলায় চলে আসেন। এ বাংলায় এসেও ওপার বাংলার সঙ্গীতের যে শুদ্ধতা, সেই শুদ্ধতা রক্ষা করেছেন সারাজীবন ধরে। আমরা এই বাজার-সংস্কৃতির যুগেও তাঁর কাছ থেকে খাঁটি লোকসঙ্গীত পেয়েছি। অনেকেই আপস করেছেন, কিন্তু উনি কোনও দিনও আপস করেননি। তাঁর অসাধারণ সুমিষ্ট ব্যবহারে সকলকে মুগ্ধ করতেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতেও যেখানেই কোনও জায়গায় তিনি মনে করতেন যে থাকা উচিত, তিনি থাকতেন। এমনকী কোনও অন্যায় দেখলেও তিনি প্রতিবাদ করতেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় তথা পশ্চিমবঙ্গের বা বাংলার লোকসঙ্গীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

লোকসঙ্গীত শিল্পী অভিজিৎ বসু বলেছেন, অমর পাল সর্বজন শ্রদ্ধেয় সঙ্গীতশিল্পী। ওঁর গান শুনতে শুনতে আমাদের লোকসঙ্গীত সম্পর্কে আগ্রহ জন্মেছে। যেমনভাবে নির্মলেন্দু চৌধুরি, অংশুমান রায় শুনেছি, তেমন ভাবে আমরা অমর পাল শুনেছি ছোটবেলা থেকে। উনি আমাদের লোকসঙ্গীতে অনেক আগ্রহী করেছেন। লোকসঙ্গীত মানেই যে খুব উচ্চকিত চিৎকার করে গাইতে হবে এমনটা নয়। তিনি খুব মাধুর্য মিশিয়ে গাইতেন। তাঁর কণ্ঠমাধুর্য ছিল অসাধারণ। তিনি খুব সুন্দর সাঙ্গীতিক ভাবে সেটাকে এক্সপ্লোর করেছেন। তাঁর এত পবিত্র কণ্ঠমাধুর্যের জন্যই সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবিতে ব্যবহার করেছেন। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘তাহাদের কথা’ ও ‘চরাচর’ ছবিতে গান গাইবার সময় ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। অত্যন্ত মিষ্টভাষী, সদালাপী এবং পরবর্তী প্রজন্মের গায়ক-গায়িকাদের সম্পর্কে উনি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক কথা বলতেন, যা সকলকে উৎসাহী করত।

অমর পালের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়ায়। ১৯২২-এর ১৯ মে। বাল্যকালে পিতা মহেশ চন্দ্র পালের মৃত্যু হলে সংসারের ভার বর্তায় তাঁর ওপরেই। গান শিখেছেন মা দুর্গাসুন্দরী দেবীর কাছে। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের তালিমও নিয়েছেন। দেশভাগের পর ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। শুরু হয় নতুন করে বাঁচার চেষ্টা। নতুন করে গান শেখা। ১৯৫১-তে আকাশবাণী কলকাতায় প্রথম লোকগানের শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁর দরাজ গলা চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছেন সত্যজিৎ রায় সহ অনেক বিশিষ্ট পরিচালক। ছিলেন লোকগানের সুদক্ষ শিক্ষকও। শনিবার সকালেও গান শিখিয়েছেন। দুপুরে বাড়িতে সেরেব্রাল অ্যাটক হলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী। বয়স হয়েছিল ৯৭।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here