ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে শচীন দেব বর্মন এবং কিশোর কুমার-এর অবদানের কোনও তুলনা চলেনা বোধহয়। এই দুই জুটি বাংলা তথা গোটা ভারতবর্ষের কাছে এক অনুপ্রেরণা ছিল। আজও যখন এদের গান আমরা শুনতে পাই, মন জুড়িয়ে যায়। পাড়ার প্যান্ডেলে কিংবা কোনও অনুষ্ঠানে এই দুই মহারথীর গান বাজতে শোনা যায়। শচীন দেব বর্মন নিজে একজন রাজ পরিবারের সদস্য হলেও কখনও তিনি নিজের জীবনকে বিলাসিতায় নিয়ে যান নি। ছোট থেকেই গান বাজনার শখ ছিল তাঁর। কিন্তু রাজ পরিবারের সদস্য হওয়ায় তিনি গান-বাজনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন নি। রাজ পরিবারের সদস্যরা ঘোর বিরোধী ছিলেন এই গান-বাজনার। শেষমেশ নিজের স্বপ্নকে পূরণ করতে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁকে ত্যাজ্য পুত্র করে দেওয়া হয়। এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে তিনি নিজের সাফল্যতার পথে এগিয়ে যান। চলার পথে অনেক কঠিন রাস্তা থাকলেও তিনি তা অতিক্রম করেন। অন্যদিকে গানের জগতে একজন লেজেন্ডারি সঙ্গীত শিল্পী হলেন কিশোর কুমার। কিশোর কুমারের একটাও গান নেই যা শ্রোতারা শোনেন নি। তাঁদেরকে স্মরণে রেখে ২২ অক্টোম্বর সার্দান অ্যাভিনিউতে অমিত কুমার ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে আর.ডি.বর্মন-এর মূর্তির পাশে এবার প্রতিস্থাপিত হল শচীন দেব বর্মন এবং কিশোর কুমার-এর মূর্তি।

এদিন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কিশোর পুত্র অমিত কুমার, সলিল চৌধুরীর কন্যা অন্তরা চৌধুরি সঙ্গে ছিলেন শ্যামল পুত্র সৈকত মিত্র, উপস্থিত ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশিষ কুমার। এই দিনটি ছিল এক ঐতিহাসিক দিন। এ বিষয়ে অমিত কুমার বলেন,”এটি একটি অসাধারণ অনুভব। আমার বাবা এবং শচীনকর্তা খুবই ভাল বন্ধু ছিলেন। সবসময় তাঁরা গান-বাজনা নিয়ে থাকতেন। আমার মনে আছে যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন আমি বাবার সঙ্গে শচীনকর্তার বাড়ি যেতাম। ওখানে আমি অনেক গান শুনতাম, সেই সঙ্গে নিজেও কিছু বাদ্যযন্ত্র বাজাতাম। শচীনকর্তা  আমায় বলতেন একটা গান শোনানোর কথা। শচীনকর্তা আমার বাবার গুরু ছিলেন, আর আর.ডি.বর্মন আমার গুরু ছিলেন।” অন্যদিকে মেয়র পারিষদ দেবাশিষ কুমার বলেন,”আমরা চাই এই সার্দান অ্যাভিনিউ নাম বদলে সঙ্গীত অ্যাভিনিউ রাখতে। সে নিয়ে দিদির সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা এই বিষয়ে কাজ শুরু করব।” তাছাড়াও এখানে সলিল চৌধুরী এবং শ্যামল মিত্রের মূর্তি বসানোর প্রয়াসও চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here