lic bengali news

 

Highlights

  •  এলআইসির ৫ বছরে অনাদায়ী সম্পদের পরিমান ৩০ হাজার কোটি
  • রাহুল গান্ধীর মোদী সরকারকে তোপ
  • সব ঠিক আছে অভয় দিল ভারতীয় জীবন বিমা

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়া, বিএসএনএল এর পরে এবার কী ভারতীয় জীবন বিমা সংস্থা(এলআইসি)? স্বাধীন ভারতের সবথেকে অপদার্থ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ৷ বিরোধীরা বহুকাল ধরেই এই অভিযোগ করছেন৷ একে একে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলি প্রায় বন্ধের মুখে মোদীর আমলে৷ এবার কী আমজনতার অন্যতম ভরসা এলাইসি বন্ধ হয়ে যাবে? উল্লেখ্য এলআইসির গ্রাহকের সংখ্যা ২৮ কোটির বেশি৷ ১.১২ লাখ কর্মী আছে৷ সেই সঙ্গে ১০.৭২ লাখ এজেন্ট আছে৷ এ হেন বিমা কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে তার সাংঘাতিক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কিত অর্থনীতিবিদদের একাংস৷ এই তালিকায় আছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও৷

বৃহস্পতিবার ট্যুইট করে এ মোদী সরকারের কাছে এমনটাই জানতে চেয়েছেন ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী৷ অর্থনীতিবিদদের মতে, এখনই অতটা ভয় না পেলেও এলআইসি-র পরিস্থিতি সত্যিই আশঙ্কার। তাঁর সাফ অভিযোগ, ‘কোটি কোটি মানুষের সৎ সঞ্চয় নিয়ে মোদী সরকার ছিনমিন খেলছে৷ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলছে কেন্দ্রীয় সরকার৷’ সেই সঙ্গে তাঁর সাফ প্রশ্ন, এবার আচমকা বন্ধ হলে এতগুলি মানুষের জীবনভ’র পুঁজির দায়িত্বকি মোদীজি নেবেন? তাঁদের কী হবে?’

রাহুলের আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের প্রথম ৬ মাসে এলআইসি’র এনপিএ অর্থাৎ অনাদায়ী সম্পদ ৬.১০%। যা ইয়েস ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক ও আইসিআইসি ব্যাংকের মতো ধুঁকতে থাকা ব্যাংকের প্রায় কাছাকাছি। দেখা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে এলআইসি’র অনাদায়ী সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০০০ কোটি টাকা।

রাহুলের এই অভিযোগ নতুন নয়৷ কংগ্রেস অবশ্য আগেই অভিযোগ করেছিল, জীবন বিমা-র ভবিষ্যৎ সঙ্কটে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রিজার্ভ ব্যাংক ও ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের দুই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে এই অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন। অভিযোগ ছিল, ১৯৫৬ সালে গঠনের পর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছ’দশকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় জীবন বিমায় মোট ১১.৯৪ লাখ কোটি ঢালা হয়েছিল। তবে ২০১৯-এ তা আচমকা বেড়ে ২২.৬৪ লাখ কোটিতে পৌঁছয়। অর্থাৎ, মাত্র ৫ বছরেই ১০.৭ লাখ কোটি এলাইসি-র টাকা অন্যত্র বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল কংগ্রেস।

ইয়েস ব্যাঙ্ক, আইসিআইসি ব্যাঙ্কের মতো ধুঁকতে থাকা ব্যাঙ্কগুলিতে টাকা দিয়ে আর তা তুলতে পারছে না এলাইসি৷এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে আইডিবিআই ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে। ঋণে জর্জরিত সংস্থায়২১ হাজার কোটি ঢেলে ৫১%-এর অংশীদারির মালিকানা নিয়েছে এলআইসি। তবে ওই পরিমাণ টাকার অধিকাংশই অনুৎপাদক সম্পদে চলে গেছে। এরপরও ওই ব্যাংকে আরও ৯৩০০ কোটি ঢালার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। যারমধ্যে ৪ হাজার কোটির বেশি এলআইসি দেবে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।

 

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কথা। এলআইসি এই ব্যাঙ্কের শেয়ার কিনেছে। পিএনবি–‌র ৮ হাজার কোটি টাকা গায়েব করে বিদেশে চম্পট দিয়েছেন নীরব মোদি, মেহুল চোকসিরা। এছাড়া এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের শেয়ারও কিনেছে এলআইসি। সেইসঙ্গে এনটিপিসি, এনএইচপিসি, এনবিসিসি, হিন্দুস্তান কপার ও কোল ইন্ডিয়াতেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে তারা। এলআইসি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ এই সংস্থার আশ্বাস, ‘অযথা ভয় পাবেন না৷ আমাদের কিছু ক্ষতি হয়নি৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here