গাফিলতিতে অভিযুক্ত তিন ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল, রায়ে অখুশি পরিবার চায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল কলকাতার বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল চার মাসের কুহেলি চক্রবর্তীর। সেই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য কমিশনে গিয়েছিলেন শিশুকন্যার বাবা অভিজিৎ ও মা শালু চক্রবর্তী। সেই ঘটনাতেই চিকিৎসকদের গাফিলতি প্রমাণ হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ক্ষতিগ্রস্তদের ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয় ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য অভিযোগপত্র পাঠানো হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলে। সেই অভিযোগপত্রটি দেখে এদিন রায় দিল কাউন্সিল। বাতিল করা হল অভিযুক্ত তিন চিকিৎসক পেডিয়াট্রিক সার্জেন ডঃ বৈশালী রায় শ্রীবাস্তব, অ্যানেস্থেসিস্ট সঞ্জয় মহাওয়ার এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুভাষ তিওয়ারির লাইসেন্স।

সূত্রে খবর, কাউন্সিলের ১৭ নম্বর ধারায় সতর্ক করা হয়েছে ওই তিন চিকিৎসককে। ২৫ নম্বর ধারায় তিন মাসের জন্য বাতিল করা হয়েছে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন। এই তিন মাস তাঁরা চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত কোনওরকম কাজ করতে পারবেন না। তবে এই রায় নিয়ে একেবারেই খুশি নয় কুহেলির পরিবার। তাদের অভিযোগ, তিনজন ডাক্তার সমান শাস্তি পেতে পারে না। অ্যানেস্থেসিস্টের দোষ অনেক বেশি। কাউন্সিলকে ম্যানেজ করা হয়েছে! এ বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে পরিবার।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কোলোনোস্কোপি (পায়ু দিয়ে ক্যামেরা ঢুকিয়ে বৃহদন্ত্রের ছবি তোলা)-র জন্য অ্যাপোলোতে আনা হয় কুহেলিকে। সেই পরীক্ষা করাতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি৷ কোলোনোস্কোপি করানোর জন্য যে ভাবে পর পর দু’দিন প্রায় না-খাইয়ে রাখা হয় ছোট্ট শিশুকে, তাতেই তার পুষ্টি তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল৷ এর উপর কোলোনোস্কোপির সময়ে অ্যানাস্থেশিয়ার জন্য প্রয়োগ করা কড়া ঘুমের ওষুধের ধকল আর সে নিতে পারেনি৷ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা যায় ছোট্ট শিশুকন্যা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here