নিজস্ব প্রতিবেদনঃ কিছু দিন আগে মাঠ থেকে তোলা হয়েছে ফসল। বৈশাখ শেষের বৃষ্টির জমা জল এখনও ক্ষেতের ইতিউতি। রাস্তার দু’ধারে শোকানো হচ্ছে ধান। অ্যাঁইয়া পাঁচমাথা মোড় থেকে একটু হেঁটে ডানদিকে ঘুরলেই রাবড়ি গ্রাম।

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রাবড়ি গ্রামের নাম এখন সকলের কাছেই পরিচিত। সেখানকার রাবড়ি, সর ভাজা এখনও মুখে লেগে রয়েছে অনেকের। অতিমারি, লকডাউনের আবহে শহুরে মানুষের আনাগোনা কমেছে গ্রামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নিয়ে লেখালেখিও এখন হচ্ছে তুলনামূলক কম। অতিমারি, লকডাউন নিয়ে কেমন আছে আমাদের রাবড়ি গ্রাম?

সকাল ১০ টা নাগাদ জ্বলেনি কয়লার উনুন। বড় বড় কড়াইয়ে তখনও ঢালা হয়নি দুধ। মিষ্টির চাহিদা কমেছে আগের থেকে। তাই আয়োজনও কম। ভোরের দিকে মিষ্টি পাঠিয়ে দেওয়া হয় দোকানে। কিংবা এসে নিয়ে যান ক্রেতা। চাহিদা মতো তৈরি হয় রাবড়ি, সর ভাজা। রাবড়ি প্রায় প্রতিদিন বানানো হলেও সরভাজা করা হয় অর্ডার অনুযায়ী। রাবড়ির তুলনায় সরভাজার প্রস্তুত প্রক্রিয়া বেশ সময় সাপেক্ষ। রান্না ঘরে পাখা ছাড়াই আগুনের সামনে রাঁধুনিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। ফুটন্ত দুধের ওপর নাড়িয়ে যেতে হয় হাতপাখা। দুধের ওপরের অংশ ঠান্ডা হয়ে সর-এ পরিণত হয়। একটা কাঠির সাহায্যে ফুটন্ত দুধের ওপরিভাগ থেকে কড়াইয়ের গায়ে সরিয়ে সরিয়ে রাখতে হয় সর। ঘন্টা দুয়েকের আগে ভালো সরভাজার আশা না করাই ভালো। আগের থেকে চাহিদাও কম, খাটনিও বেশি। তাই অর্ডার ছাড়া সরভাজা প্রস্তুত করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

কথা বলে জানা গেল লকডাউনের ফলে আগের থেকে বেড়েছে কয়লার দাম, দুধের দাম। তুলনায় কমে গিয়েছে চাহিদা। তাই ক্ষতির মুখে বাংলার এই গ্রামের কুটির শিল্পীরা। চোখে-মুখে অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তার ছায়া। তবে তার থেকেও বেশি করোনা অতিমারি নিয়ে অজানা এক আতঙ্ক। গ্রামে জনঘনত্ব কম। তবুও তাদের মুখে মাস্ক। গ্রামের বাইরের কেউ এলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা।

থুতনির নীচে মাস্ক নেমে এলে পাড়ার বয়জেষ্ঠ্যর সাবধান বাণী, ‘নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছো তো!’

রাবড়ি গ্রামে করোনা প্রবেশ করেছে বলে জানালেন এক গৃহিনী। ইশারায় দেখিয়ে দিলেন গ্রামের কোন দিকটায় মারণ ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলেও শোনা গেল। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলেই যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এমনটা হলফ করে বলতে পারলেন না তিনি। বাড়ির দোরগোড়ায় অতিথি এসে দাঁড়ালে তাঁকে না ফেরানোই গৃহস্থ্যের রীতি। লকডাউন, অতিমারি পূর্বের রাবড়ি গ্রামেও অতিথি আপ্যায়নে কোনও ত্রুটি রাখতেন না বাড়ির কর্ত্রী বা কর্তা। বাড়ির উঠোনে বসিয়ে রাবড়ি খাইয়ে তবে অতিথি বিদায়। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। অগত্যা না ছুঁই মাছ না ছুঁই পানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here