locket mamata

মহানগর ডেস্ক: রাজনীতির আঙিনায় বরাবরই ‘ঝুঁকি’ নিতে ভালবাসেন তিনি, আর তাঁর সেই স্বভাব যে একটুও বদলায় নি, শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার মঞ্চে সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় তিনি জানালেন, তিনি লড়বেন নন্দীগ্রাম আসন থেকেই। এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। টুইটারে মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘জেনে গেছে জনতা, ভয় পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন মমতা।’ অর্থাৎ মানেটা খুব স্পষ্ট, নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ছেড়ে দিয়েছেন মমতা। এরপরেই তাঁকে উদ্দেশ করে এই খোঁচা দেন গেরুয়া শিবিরের নেত্রী লকেট।

মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে ইচ্ছুক বলে জানানোর পর থেকেই তা নিয়ে লাগাতার তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর দেখা যায়, দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। সপ্তম দফায় ২৬ এপ্রিল ভোটগ্রহণ ভবানীপুরে। যে সূত্রে বিজেপি শিবির কটাক্ষ করতে শুরু করেছিল, একটায় হারলে যাতে অন্যটা হাতে থাকে, তার জন্য দুই কেন্দ্র থেকেই মমতা ভোটে দাঁড়াতে চলেছেন। তবে মমতা তা করেননি। জমি আন্দোলনে মমতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়ানো নিয়ে প্রকাশ্যে মমতাকে চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। বলেন, ‘‘সাহস থাকলে মমতা শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম থেকে লড়ে দেখান!’’

কিন্তু গণ আন্দোলনের নেত্রী থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক অধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘযাত্রা পেরিয়ে এসে তিনি যে ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, সে কথা আরও এক বার প্রমাণ করলেন মমতা। নন্দীগ্রামে মমতাকে ৫০ হাজার ভোটে হারিয়ে ছাড়বেন বলে হুঙ্কার ছেড়েছেন শুভেন্দু। কিন্তু মমতা বুঝিয়েছেন, তিনি পিছু হটার মানুষ নন! ১০ মার্চ মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই নন্দীগ্রামে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন মমতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here