ডেস্ক: একজন নন, একশো জনও নন, নন হাজারো জন। তারা পঞ্চাশ হাজার মানুষের লং রেড মার্চ। কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা নয়, কোন রাস্তা অবরোধ-রেল রোকো নয়, নয় নিছক ব্যানার ফেস্টুনের প্রদর্শন। সুশৃংখলিত সংঘবদ্ধ সেই ভিড় গত মঙ্গলবার রাজ্যের রাজধানীর পথে রওনা দিয়েছিল নাসিক থেকে। সময় তারপর যতই এগিয়েছে সেই মিছিলে পা মিলিয়েছে কাতারে কাতারে মানুষ। যারা প্রায় সকলেই কৃষক। সিপিআই(এম) প্রভাবিত সারা ভারত কৃষক সভা সংগঠনের তরফে আয়োজিত এই মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন গেরুয়া থুড়ি দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকারকে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করা। নাসিক থেকে যখন এই মিছিল শুরু হয়েছিল তখনই সেখানে জমে ছিলেন কয়েক হাজার কৃষক। তারপর জাতীয় সড়ক ধরে মিছিল যতই মুম্বই মুখী হয়েছে ততই লম্বা হয়েছে মিছিলের লেজ। কাতারে কাতারে কৃষক লাল পতাকা হাতে সামিল হয়েছেন সেই সংঘবদ্ধ নীরব চলমান প্রতিবাদে। সোমবার ভোরে সেই মিছিল যখন মুম্বই ছুঁল তখন তাতে সামিল হাজার পঞ্চাশ কৃষক।

সকাল সকাল এদিন মুম্বাইয়ের ঘুম ভেঙেছে লং রেড মার্চ দেখে। এরপর সময় যতই এগিয়েছে, ততই স্নায়ুর চাপে পড়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন ফড়নবীশ সরকার। কারণ সদা ব্যস্ত মহানগরীর কেউই বলতে পারেননি মিছিলে আটকেছে মুম্বইয়ের জনজীবন। বিকালে তাই কৃষক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বাধ্য হল ফড়নবীশ সরকার। কৃষক সংগঠনের ১২ জন সদস্যের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সেই বৈঠকে ফড়নবীশ সরকার ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি, কৃষি ঋন মুকুব, আদিবাসী কৃষকদের হাতে বনের জমি তুলে দেওয়ার মত দাবি মেনে নিয়েছে বলে বৈঠক শেষে কৃষক সভার তরফে জানানো হয়। পরে রাজ্য সরকারের তরফে মন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল জানান, রাজ্য সরকার আগামী ৬ মাসের মধ্যে কৃষকদের দাবি বাস্তবায়িত করবে।

গোটা ঘটনার জের অবশ্য পড়েছে রাজ্য রাজনীতির উপরেই। এমনিতে মহারাষ্ট্রে সিপিআই(এম)’র সেরকম কোন সংগঠন নেই। নেই সুবিশাল ভোটব্যাংকও। বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বও নামে মাত্র। অথচ তাদের উদ্যোগেই লং রেড মার্চ কার্যত নড়িয়ে দিল ফড়নবীশ সরকারের একরোখা মনোভাবকে। যদিও অনেকেই বলছেন লং রেড মার্চ সফলতার পিছনে রয়েছে মাওবাদীদের সংগঠন ও শিবসেনার নীরব সমর্থন। আর এই নয়া সমীকরনকেই এখন সমীহের চোখে দেখতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। দিনের শেষে ইয়েচুরি-কারাত শিবির অবশ্য খুশিই হবেন এটা দেখে যে পূবে লাল অস্তে গেলেও পশ্চিমে লাল যেন নবজীবন ফিরে পাচ্ছে আর সেটা গেরুয়া মাটিতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here