নিজস্ব প্রতিবেদক, শিলিগুড়ি: পুলিশি তদন্তে কিনারা হয়ে গেল দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থানা এলাকার প্রধাননগরের জোড়া খুনের ঘটনার। ওই ঘটনায় এবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল প্রেমিক প্রেমিকা। গত ২১ জুলাই প্রধাননগরে নিজের বাড়িতেই খুন হয়ে গিয়েছিলেন ক্যাটারিং ব্যবসায়ী অজয় কুশওয়া ও তার স্ত্রী মীনা কুশওয়া। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের মনে হয়েছিল ওই দম্পতির ঘনিষ্ঠ কেউ এই খুনের সঙ্গে জড়িত। তাদের এটাও মনে হয়েছিল যে এক জন নয়, একাধিক মানুষ এই ঘটনায় জড়িত। সেই সুত্র ধরেই তদন্তে নেমে পুলিশের নজর পড়ে গিয়েছিল অজয়ের কেটারিং সংস্থায় কাজ করা ভূমিকা সেওয়ার ওপর। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার সময় খুনের কথা জানাজানি হওয়ার পর ওই বাড়ির অনেকেই এগিয়ে এলেও ভূমিকা আসেনি। অথচ ভূমিকার অবাধ গতিবিধি ছিল অজয়ের বাড়িতে। সে অজয়দের ওপরের তলাতেই ভাড়া থাকত।

পুলিশ এটাও জানতে পারে ভূমিকার বাড়ির দরজা বাইরে থেকে লাগানো থাকায় সে বাইরে বার হতে পারছিল না। এক প্রতিবেশি তার দরজার হুড়কো খুলে দেওয়ার পর সে এসেছিল অজয়ের বাড়িতে। কিন্তু এই কথাটাই সে পুলিশকে জানায়নি। সেই সুত্র ধরেই ভূমিকাকে লাগাতার জেরা করে পুলিশ জানতে পারে গোটা ঘটনাটার পিছনে সে আর তার প্রেমিক সঞ্জয় তামাং জড়িত। অজয়ের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত করার সুবাদে ও তার ক্যাটারিং সংস্থার কর্মী হওয়ার সুবাদে ভূমিকা জানৎ অজয়ের বাড়িতে কোথায় কত টাকা রাখা থাকে। ঘটনার সময় অজয় বাড়িতে ৫ লক্ষ টাকা এনে রেখেছিল। সেই টাকা হাতানোর জন্যই খুনের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে ভূমিকার প্রেমিক সঞ্জয় আসার পর তাকে নিয়েই অজয়ের বাড়িতে গিয়েছিল ভূমিকা। অজয় নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিল। সঞ্জয়ের সঙ্গে অজয়ের কথা বলার সময়েই ভূমিকা শিলনোড়া দিয়ে পিছন থেকে অজয়ের মাথায় বারংবার আঘাত করে। অজয় যাতে বাধা দিতে না পারে তার জন্য সঞ্জয় তার হাত ধরে রেখেছিল। একই কায়দায় তারা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মীনাকেও খুন করে আলমারি খুলে টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। সঞ্জয় আবার ভূমিকাকে তার ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজার হুড়কো টেনে দেয়। পুলিশ এসব কিছু জানতে পারে সোমবার রাতেই কালিম্পংয়ের রিয়াং থেকে সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here