kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁকুড়া ও হাওড়া: শনিবার সকালে দুই জেলার দুটি ভিন্ন ঘটনা আলোড়ন ফেলল সামাজিক স্তরে। বাঁকুড়া জেলার মেজিয়াতে এক যুগলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে হাওড়া জেলার পাঁচলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক তরুণীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল তারই প্রেমিকের বিরুদ্ধে। দুটি ঘটনার জেরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

শনিবার সকালে বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া থানার ভূলুই গ্রামের কাছে একটি জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুগলের  মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যুগলের নাম কানাই গঁড়াই ও লক্ষী গঁড়াই। জানা গিয়েছে, মৃত মহিলা বিবাহিতা এবং তার দুটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর সঙ্গে কানাইয়ের তিন বছরের প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক ছিল। গত পরশু দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে লক্ষ্মী মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়। কিন্তু শুক্রবার বিকাল থেকেই হাসপাতাল থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এই নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ মেজিয়া থানায় রোগীনির নিখোঁজ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। পুলিশ নিখোঁজের সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে এদিন ভুলুই গ্রামের পার্শ্ববর্তী এক জঙ্গলে গাছে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় লক্ষ্মী গঁড়াইকে দেখতে পায় পুলিশ। তার সঙ্গে কানাইকেও ঝুলতে দেখা যায়। পুলিশ তদন্তে নেমে  গ্রামবাসীদের মারফত ওই দুইজনের প্রেম সংক্রান্ত খবর পায়। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

 

অপর দিকে হাওড়া জেলার পাঁচলা থানার গঙ্গাধরপুরে এক যুবকের বিরুদ্ধে উঠল তার প্রেমিকাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, পাঁচলা গঙ্গাধরপুর কলেজের বি এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রেসমিনা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল জগবল্লভপুরের পোলগুস্তিয়ার বাসিন্দা সেখ রহমত আলীর। সেই সম্পর্কের কথা রহমতের বাড়ির লোকেরা জানতে পারার পর থেকেই রেসমিনার ওপর চাপ দেওয়া হতে থাকে যাতে সে ওই সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু রেসমিনা জেদ ধরে সে রহমতকেই বিয়ে করবে। অভিযোগ, এদিন সকালে রহমত ডেকে পাঠায় রেসমিনাকে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে রেসমিনা রহমতের সঙ্গে দেখাও করে। এরপরই রহমত তাকে একটি গাড়িতে করে নির্জন এক স্থানে নিয়ে আসে। সেখানেই গাড়িতে আগে থেকে রাখা জ্যারিকেন ভর্তি কেরোসিন সে রেসমিনার গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। রহমত সেখানেই রেসমিনাকে ফেলে পালিয়ে আসে। কিন্তু রেসমিনার আর্তনাদে পথচলতি লোকেরা তাকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here