মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভেঙে পড়া অর্থনীতির শরীরে দেখা যেতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য ফিরে আসার লক্ষণ। অর্থ মন্ত্রক থেকে আজই প্রকাশিত হয় মে ও জুন মাসের ম্যাক্রোইকোনমিক রিপোর্ট। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের পূর্বাভাস ছিল, কোভিড–১৯ এর কারণে তৈরি হওয়া অভাবিত পরিস্থিতিতে জোগান–চাহিদা ব্যবস্থায় যে প্রবল ধাক্কা লেগেছে তার ফলে চলতি অর্থবর্ষে জিডিপি ৪.৫ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্টে সেই পূর্বাভাসকেই কার্যত সঠিক বলে মেনে নেওয়া হল।

অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন করার বিষয়ে সরকারের দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে জানানো হয়েছে প্রকাশিত রিপোর্টে। দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শিথিল করার পরই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হল। আগে থাকতেই ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি করোনাভাইরাস অতিমারীর ফলে প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছেন।  বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অতিমারীর আগের অবস্থায় অর্থনীতির ফিরতে এখনও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

ম্যাক্রোইকোনমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসকে সার্থক ভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম ভ্যাকসিনের অভাব অর্থনীতির সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করছে লকডাউন সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার পর বর্তমানে নেওয়া আর্থিক সংস্কারগুলি আগামীদিনে কতটা কার্যকরী হবে তার ওপর। সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক খুব দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ায় আর্থিক অগ্রগতির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

”আত্মনির্ভর ভারত” স্টিমুলাস প্যাকেজের ফলে আর্থিক সংস্কার ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। কোভিড–১৯ এর কারণে এপ্রিল ও মে মাসে রাজস্ব আদায়ে যথেষ্ট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সারা পৃথিবী জুড়েই অতিমারীর কারণে আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছে। দেশীয় বাজারের ক্ষেত্রে এক প্রবল অনিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে করোনাভাইরাস।

অস্থির (volatile) বাজারের জন্য আগাম সঠিক পরিকল্পনা করা যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অনিশ্চয়তার পরিবেশ ব্যবসায়িক পরিবেশকে প্রভাবিত করায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম লক্ষ্যণীয় মাত্রায় কমে যাওয়ায় এবং আমদানি কম হওয়ার ফলে রফতানি কম হলেও মোট যোগফলের হিসেবে বাণিজ্যিক ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here