kamal nath

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছিল মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা। তবে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথকে চিঠি পাঠিয়ে কালই আস্থা ভোট করানোর নির্দেশ দিলেন মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালজি টন্ডন। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে তিনি লেখেন সরকার যাতে ১৭ মার্চ বা মঙ্গলবার ফ্লোর টেস্ট করায়। আর যদি তা না করা হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে সরকারের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। মধ্যপ্রদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে রাজ্যপালের এহেন চিঠি কংগ্রেসের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার বিধানসভা অধিবেশনে স্পিকার ও রাজ্যপালের উপস্থিতিতে আস্থাভোটের জন্য আবেদন জানান। বলেন, ‘সংবিধানের নিয়ম প্রত্যেকের মেনে চলা উচিত যাতে মধ্যপ্রদেশের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে।’ এরপরই সরকার আস্থাভোটে নামার জন্য বলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই তুমুল হট্টগোল শুরু করেন কংগ্রেসের বিধায়করা। পরিস্থিতি লাগাম ছাড়া হতেই বিধানসভা ছাড়েন রাজ্যপাল। ঠিক তারপরই আস্থাভোট প্রক্রিয়া বাতিলের পাশাপাশি আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি করা হয় মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা।

এদিকে এই ঘটনায় যারপরনাই রুষ্ট বিজেপি। তাদের দাবি, মধ্যপ্রদেশের দীর্ঘ দিন ধরে কংগ্রেস সরকার চালালেও বর্তমানে ২২ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেস থেকে। ফলে এখন কংগ্রেস সংখ্যালঘু। আস্থাভোট করাটা একান্ত দরকার।

অন্যদিকে, সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ রাজ্যপালের কাছে চিঠি লিখে জানান, তাদের একাধিক বিধায়ককে কর্ণাটকে পুলিশ প্রহরায় আটকে রেখেছে বিজেপি। এতজন বিধায়কের অনুপস্থিতিতে কখনই সম্ভব নয় আস্থাভোট। যদিও তার সে দাবি খারিজ করে বিধানসভায় বসেছিল আস্থা ভোটের আসর। তবে শেষ মুহূর্তে সেই তুমুল হট্টগোলের জেরে ভোট বাতিল করে দেন স্পিকার।

প্রসঙ্গত, ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় মোট বিধায়ক ২২৮ জন। সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৫ জন বিধায়কের সমর্থন। চার নির্দল বিধায়ক, দুই বহুজন সমাজ পার্টি-র বিধায়ক এবং এক জন সমাজবাদী পার্টির বিধায়কের সমর্থনে এত দিন সেখানে ১২১টি আসন ছিল কংগ্রেসের দখলে। এদিকে ২২ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ার সংখ্যা হয়েছে ৯৯। নির্দল, বসপা এবং সপার তরফে সমর্থন উঠে গেলে কংগ্রেসের পক্ষে থাকা বিধায়কের সংখ্যা হবে ৯১। এ ক্ষেত্রে বিধানসভার ম্যাজিক সংখ্যা হবে ১০৪। বিজেপির কাছে যেহেতু ১০৭ জন বিধায়ক রয়েছে, তাই আস্থাভোট হলে তাদের জয়লাভে কোনও বাধা থাকবে না।

তবে রাজ্যপালের এই চিঠিতে বেশ চাপের মুখে পড়ে গেল কমলনাথ সরকার, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here