মহানগর ওয়েবডেস্ক: শপথ নেওয়ার পর কেটে গিয়েছে ৯ দিন। অবশেষে রবিবার দপ্তর পেতে চলেছেন মধ্যপ্রদেশের ২৮ জন মন্ত্রী।

মন্ত্রিসভা সদস্যদের বেছে নেওয়ার পরও মন্ত্রক ভাগাভাগির ক্ষেত্রে এত দেরি হওয়া নিয়ে নানা জল্পনা ছড়াতে শুরু করেছিল মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে। শোনা যাচ্ছিল মাসকয়েক আগেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং তাঁর অনুগামীদের পছন্দসই মন্ত্রক পাওয়া নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়েছে সরকারের অন্দরে। ২২ জন বিধায়কের মধ্যে মন্ত্রক বেশ কয়েকজন পেলেও সেই সংখ্যা নিয়েও নাকি অসন্তুষ্ট ছিল সিন্ধিয়া শিবির। এহেন সব জল্পনার মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান শনিবার জানিয়ে দেন, আগামিকাল তিনি মন্ত্রিসভার মন্ত্রক বণ্টন করবেন।

দ্বিতীয়বার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর গত ২ জুলাই শিবরাজ সিং চৌহান বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা জন্ম নিয়েছিল একাধিক। সরকারের কোনও পদে না থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠকে তাঁর উপস্থিত থাকা বুঝিয়ে দিচ্ছিল, শিবরাজ যে অনেকটাই চাপে রয়েছেন সিন্ধিয়া পরিবারের রাজপুত্রকে নিয়ে।

মন্ত্রিসভা বণ্টনের সময় শিবরাজ যে কতটা চাপে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। ২৮ জন মন্ত্রী তালিকায় অন্তত ১২ জন সিন্ধিয়া অনুগামী বিধায়ক বেছে নিয়েছিলেন ‘মামাজি’। পরবর্তী সময়ে যার পরোক্ষ চাপ আসে তাঁর উপর। বহু বিজেপি নেতা ও পূর্বের সরকারের মন্ত্রীদের নাম তালিকায় না থাকায় দলেরই তোপের মুখে পড়তে হয় শিবরাজকে। মধ্যপ্রদেশ বিজেপি শিবিরের প্রাক্তনীরা ভেতরে ভেতরে ফুঁসছেন ক্ষোভে। শিবরাজ এখন সিন্ধিয়ার কাছে হাল ছেড়েছেন দিয়ে বলে ইঙ্গিত করছেন অনেকেই। এবার আগামিকাল মন্ত্রিসভা বণ্টনের পর যেই শিবির পছন্দসই মন্ত্রক পাবে না, তারা যে নতুন করে শিবরাজকে সমস্যায় ফেলবে তা এখন থেকে বলে দেওয়া যায়। আরও একটা জিনিস স্পষ্ট করে বলা যায়, মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক নাটক এখনও শেষ হয়নি। এটা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here