ডেস্ক: মূর্তি ভাঙার ন্যাক্কারজনক কাণ্ডের তালিকায় এবার সামিল হল জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির নাম। শুরুটা হয়েছিল ত্রিপুরায়, লেনিনের মূর্তি দিয়ে। সেই প্রবণতা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তি, এবং পরে পেরিয়ার ও আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আসরে নামতে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহকে। এহেন কাজ করলে কঠোর শাস্তির নিদান দিলেও বৃহস্পতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল কেরলের কন্নুর জেলায়।

কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে কন্নুরের এই গান্ধি মূর্তির চশমা ভেঙে দেয় বলে জানা গিয়েছে। ত্রিপুয়ার গেরুয়া শিবিরের জয়ধ্বজা ওড়ার পর থেকেই একে একে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে মনিষীদের অবয়বের উপর আক্রমণ। এই কাণ্ডের পিছনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবশ্য এখনও পর্যন্ত অধরাই রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের পর আজও ফের তামিলনাড়ুতে বিআর আম্বেদকরের মূর্তিতে কালি ঢেলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। কেন্দ্রের তরফে এই নিয়ে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও, মূর্তি ভাঙার এই যজ্ঞে অবলীলায় সামিল হয়েছে কট্টরপন্থীরা।

অন্যদিকে, কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তিতে কালি ঢালায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য প্রান্তের অভিযুক্তরা এখনও অধরা। কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই ঘটনাপ্রবাহের দায় রাজ্যের উপর চাপিয়ে রাজ্য সরকারকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কড়া বার্তা দিয়েছে। কিন্তু এতো কিছু করেও মূর্তি ভাঙার যে নতুন ট্রেন্ড দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তাতে লাগাম দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব হচ্ছে না কোনও রাজ্য সরকার দ্বারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here