kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার: কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর মহিষবাথান এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৭০ বিঘা জমি দখল করে বিনোদন পার্ক তেরি অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা সুবল সরকার ও সজল সরকারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মদত রয়েছে বলে অভিযোগও উঠেছে। গত দুবছর ধরে এই জমি দখলের কাজ চলছিল। তবে এলাকার মানুষ এতদিন চুপ থাকলেও লোকসভা নির্বাচনের ফলের পর এলাকার কৃষকরা জমি রক্ষা কমিটি নামে সংগঠন করে গোটা ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে বিনোদন পার্কের গেটে জমি রক্ষা কমিটির পোস্টার লাগিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে জমি ফেরতের দাবি তুলে কিছুদিন আগে যেমন রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কৃষকরা তেমনি রবিবার থেকে খাগড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান গায়ত্রী সরকারের স্বামী সুবল সরকার এবং তার ভাই সজল সরকারের বিরুদ্ধেও তাদেরই বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসেন তারা। রবিবাবুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানোর দিন পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নিলেও রবিবার তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যায় বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু সমস্যা বাধে রাত্রে। অভিযোগ উঠেছে জমি কমিটির লোকেরা জেসিবি দিয়ে রিসর্টের পাঁচিল ভেঙে দেয়। সেই সঙ্গে চলে অবাধে বোমাবাজি।

জানা গিয়েছে, রবিবার মাঝরাতে জমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা জেসিবি নিয়ে এসে রিসোর্টের পাঁচিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পাশাপাশি সেই সময় ওই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি। যার জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভীষণ আতঙ্গিত হয়ে পড়েন। এরপরই শুরু হয় রিসর্টে ঢুকে অবাধে ভাঙচুর আর লুঠতরাজ। এদিন সকালে গ্রামবাসীরা জানান, জমি রক্ষা কমিটির নেতা দীপঙ্কর দে বাইরে থেকে ছেলেপেলে নিয়ে এসে বোমাবাজি করার পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুঠতরাজ চালিয়েছে। এমনকি দুষ্কৃতীরা তাদের হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তৃণমূলকে সমর্থন করলে গ্রামের লোকদের গ্রামছাড়া করে দেওয়া হবে। তারপর গ্রামে ফিরতে হলে পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে তাদের দিতে হবে। গ্রামবাসীরা রাতেই পুণ্ডিবাড়ি থানায় ফোন করে পুলিশি সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তারা কোন সাহায্য পাচ্ছেন না বলেই তারা এদিন অভিযোগ করেছেন।

এদিকে এই ঘটনার জেরে গায়ত্রী সরকার জানান, ‘কারও জমি জবরদখল করে কিছু করা হয়নি। সমস্ত জমি আমার স্বামী কিনে নিয়েছে। সেই জমিতেই যা কিছু তৈরি করার তা করা হয়েছে। বিজেপি চক্রান্ত করে আমাদের বদনাম করার লক্ষ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। জমি কমিটির নামে বিজেপির লোকেরাই এই সব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’ যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জমি রক্ষা কমিটির নেতা দীপঙ্কর দে জানান, ‘উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবিন্দ্রনাথ ঘোষের মদতে এলাকার তৃণমূল নেতারা কৃষকদের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে। সেখানে বিনোদন পার্কের নামে বিভিন্ন অসামাজিক কার্জকর্মের আড্ডা তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জমি দখল করছে। মানুষের বাড়িতে ঢুকে জোর করে জমি নেওয়ার চেষ্টা করছে। বোমাবাজি, লুঠতরাজ, ভাঙচুর, পাঁচিল ভাঙার সঙ্গে কমিটি জড়িত নয়। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে আমাদের বদনাম করার জন্য এই ধরণের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here