মহানগর ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরের জঙ্গিদের গুলিতে বিজেপি নেতা ওয়াসিম বারি খুন হওয়ার পর থেকে উপত্যকায় মূল স্রোতের রাজনীতিবিদদের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠাণ্ডা রক্তস্রোত বয়ে চলেছে। বিশেষ করে বিজেপি বিরোধী যারা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে তারা মনে করছেন প্রকারন্তরে জঙ্গিদের গুলির মুখে সরকার তাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

প্রাক্তন বিধায়ক গুলাম মোহিউদ্দিন মীর বিগত এক বছর ধরে নিজেকে বন্দি করে রেখেছেন। গতবছর অগস্ট মাসে তার নিরাপত্তারক্ষীদের তুলে নেওয়া হলে মীর এসে আশ্রয় নেন পুলওয়ামায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের দলীয় কার্যালয়ে। ১৯৯৬ সালে বিধায়ক হওয়ার পর মীরের ওপর প্রায় বারো বার জঙ্গি হামলা হয়েছে। কিন্তু এখনকার মতো এতটা সন্ত্রস্ত তিনি কখনও বোধ করেননি বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রাক্তন বিধায়ক।

”গত বছর ৩ অগস্ট থেকে আমি এই কার্যালয়ে রয়েছি, আমি বাইরে বেরতে পারি না কারণ আমার কোনও নিরাপত্তা রক্ষী নেই। আমি বাড়িও ফিরতে পারি না কারণ সেখান থেকেও নিরাপত্তা রক্ষীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ভীষণ অসহায় বোধ করছি। সরকার আমাদের জঙ্গিদের দয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছে”, বলে জানান প্রাক্তন বিধায়ক।

গুলাম মোহিউদ্দিন মীরের বাবা পুলওয়ামায় জঙ্গিদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জঙ্গি আক্রমণে মীরের দুই দেহরক্ষী নিহত হয়। তখনও মীর ভয় পেয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসেননি। কিন্তু ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে তার নিরাপত্তা রক্ষীদের সরিয়ে দিতেই মারাত্মক ভয় ঘিরে ধরেছে তাকে। ”এরকম অবস্থা এই প্রথম দেখছি। যদি আগে জানতাম এরকম কিছু ঘটতে পারে তাহলে মূল স্রোতের রাজনীতিতে কখনওই আসতাম না”, বলে জানান ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা।

জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ বিজেপির কর্মীরা নিরাপত্তা পাচ্ছে, কিন্তু বিজেপি ছাড়া অন্যান্য দলের নেতা কর্মীদের কোনও সুরক্ষা নেই। তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেদেরকেই করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মূল স্রোতে রাজনীতি করা বিভিন্ন দলের কর্মীরা। প্রাক্তন মন্ত্রী সাকিনা ইতু জানান, ৫ অগস্ট তার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরকে একাধিক চিঠি লিখেও কোনও লাভ হয়নি।

পুলওয়ামার ব্লক ডেভলমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান উমর জান বলেন, ”আমরা এখন ঈশ্বরের দয়ায় বেঁচে আছি। অনন্তনাগের সরপঞ্চ অজয় পণ্ডিতা অজস্রবার তার নিরাপত্তারক্ষীর জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তিনি খুন হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা করা হয়নি।” কংগ্রেস নেতা উমর জান বলেন কারা নিরাপত্তরক্ষী পাবে সেটা নির্ভর করছে কে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী তার ওপর।

ওয়াসিম বারির হত্যার ঘটনার পর অবশ্য বিজেপিও পুলিশি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। বিজেপির মুখপাত্র আলতাফ ঠাকুর জানিয়েছেন, ”পুলিশের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা দরকার। যদি বিষয়টি নিয়ে তারা আন্তরিক হত তাহলে ওয়াসিম বারিকে এভাবে প্রাণ দিতে হত না। পুলিশ জানিয়েছে বারির জন্য তারা ৮ জন দেহরক্ষী নিয়োগ করেছিল। কিন্তু তারা কোথায় ছিল? তারা একটা গুলিও কেন খরচ করল না এবং একটি জঙ্গিকেও কেন খতম করল না?”

ঋণ: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here