kolkata news

Highlights

  • রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক এই দুই প্রধানকেই এবার একযোগে খোঁচা দিলেন অধীর
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জগদীপ ধনকড়কে জোকার বলে উল্লেখ করলেন
  • মোদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈঠক করছেন আমাদের চালাক দিদি

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মুখে যতই বিজেপি বিরোধিতা করুন না কেন, অন্তরে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগটা ভালোই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেই সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। এবং দ্বিতীয় জন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সুযোগ পেলেই তিনি অভিযোগ করেন তৃণমূল সরকারের কাজে কর্মে অপমানিত তিনি। আলটপকা মন্তব্যের জন্যও মাঝে মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক এই দুই প্রধানকেই এবার একযোগে খোঁচা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জগদীপ ধনকড়কে জোকার বলে উল্লেখ করলেন তিনি।

শুক্রবার মেদিনীপুর শহরে যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে সিএএ বিরোধী এক সভায় উপস্থিত হয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘দিদিকে বোঝা খুব মুশকিল, আমি বুঝি না। এদিকে রাজভবনে বৈঠক করছেন, অন্যদিকে এনপিআর বৈঠকে লোক পাঠাচ্ছেন না। বাংলায় সার্কাস চলছে এটুকু বলা যায়।’ এরপরই তাঁদের খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজভবন আর নবান্ন ভবন, দুই ভবনের দুই মাথা, তারা সার্কাসের দুটো জোকার।’

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর রাজভবনে বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, ‘মোদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈঠক করছেন আমাদের চালাক দিদি। বলছেন রাজভবনে টাকার জন্য বৈঠক করেছি। তা করতে হলে যেখানে টাকা পাওয়া যাবে সেখানে যাওয়া উচিত ছিল। ওটা সঠিক কাজ করা হতো। আসলে আপনি নিজে বাঁচতে চান এবং বাঁচাতে চান। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক মধুর রাখতে রাজভবনে বৈঠক করেছেন। দিদি এবং মোদীর চালাকি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে।’

এরপর মমতা ও মোদীকে আক্রমণ করে অধীর বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী বলছেন, ‘পাকোড়া বিক্রি করে তোমরা বড় হও’। দিদি বলেন, ‘চপ বিক্রি করে তোমরা বড় হও’। নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমি চা বিক্রি করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছি’। দিদি বলেন, ‘আমি হাওয়া খেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। এখন তোমরা চপ শিল্প তৈরি করো।’ এখন আমরা একদিকে চা কুমারের পাল্লায় পড়েছি। উল্টো দিকে চাপ কুমারির পাল্লায় পড়েছি। চা কুমার ও চাপ কুমারি আমাদের রক্ষা করবেন না, তাই আপনারা সকলে সতর্ক থাকবেন।”

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রকৃত অর্থে কোনও সুদূরপ্রসারি ব্যাপার নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, ”সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন করছে সরকারের কাছে, কেন আমরা কিছু পাচ্ছি না? নরেন্দ্র মোদী উত্তরে বলছেন, ‘বাইরে থেকে প্রচুর অনুপ্রবেশকারী ঢুকে ভারতবর্ষের মানুষের চাকরি-সহ সমস্ত সুবিধা খেয়ে নিচ্ছে’। আপনার গ্রামে আপনি বাসিন্দা হয়ে কোনও অনুপ্রবেশকারী চাকরি খেয়ে নিচ্ছে দেখতে পাবেন না। নরেন্দ্র মোদী নাকি সব দেখতে পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁর তিনটে চোখ আছে। তাই আপনার থেকে বেশি দেখেন। বোঝানো হচ্ছে নাগরিক আইন চালু করে দিলে দেশে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। সরকার এটা বলছে না অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে কোথায় পাঠাবে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ পাঠাতে হলে সে দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলা দরকার ছিল। ওরা নিজেরাই জানে না কোথায় পাঠাবেন, কাদের পাঠাবেন, কী খাওয়াবেন, কারা অনুপ্রবেশকারী। আপনি এটা নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী একদিকে, বাংলার দিদি আর এক দিকে। দু’জনেই এনআরসি এনআরসি করে যাচ্ছেন। মানুষের মূল সমস্যা নিয়ে মোদী এবং দিদি কাউকেই জবাব দিতে হচ্ছে না। এই বিষয়টা মোদী এবং দিদির টিকে থাকার সহজ হাতিয়ার হয়ে গেছে। এটা নিয়ে পরিকল্পিত অসুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে আমরা সমস্ত অভাব-অভিযোগ ভুলে গিয়ে এটা নিয়ে পড়ে থাকি। যেন মুসলমানটাকে তাড়ালেই আমার সমস্ত ঝামেলা মিটে যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here