ডেস্ক: শুক্রবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠকে রাজ্যসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজ্যসভায় সংস্কৃতি বা অন্য কোনও ক্ষেত্রের জনপ্রিয় মুখ নয়, মমতা আস্থা রাখলেন রাজনীতির কারবারিদের উপরেই। এদিন রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করলেন তিনটি নতুন নাম। যাঁরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে রাজ্যে যথেষ্ট পরিচিত মুখ। এবার তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যেতে চলেছেন শুভাশিস চক্রবর্তী, আবির বিশ্বাস ও শান্তনু সেন। সেই সঙ্গে রয়ে গেলেন গতবারের রাজ্যসভার সদস্য নাদিমুল হকও।

২৩ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবারে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় খালি হয়েছে ৫ টি আসন। তৃণমূলের এই চার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ২১৩। চার প্রার্থীকে জয়ী করার পর আরও বেশ কিছু ভোট থাকবে তৃণমূলের হাতে। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে পঞ্চম আসনে সমর্থন করার ঘোষণাও করেন মমতা। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের রাজ্যসভা নির্বাচনেও রাজ্য তৃণমূল, কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য্যকে সমর্থন করেছিল। তৃনমূল নেত্রীর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহল মাস্টার স্ট্রোক হিসাবেই দেখছে।

উল্লেখ্য, গতবার এই চারটি আসনে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন নাদিমুল হক, মুকুল রায়, কুণাল ঘোষ ও বিবেক গুপ্তা। যেখানে মুকুল রায় দল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তৃণমূল থেকে দীর্ঘদিন সাসপেন্ড কুণাল ঘোষ, এবং বিশেষ কারণে সরানো হয় বিবেক গুপ্তাকে।

রাজনৈতিক মহল মমতার রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকাকে সর্বভারতীয় স্তরে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। রাজনীতির মূল স্রোতের বাইরে বেরিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের রাজ্যসভায় পাঠানোর রীতি আছে এদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে। তৃনমূল কংগ্রেসও বিভিন্ন সময়ে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাজ্যসভায় সাংসদ করেছে। কিন্তু সংসদের আলোচনা বা বিতর্কে সেইসব সদস্যদের সক্রিয়তা অনেক সময়ই খুব একটা দেখা যায়নি। এই মুহূর্তে রাজ্যের মতো গোটা দেশে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর কট্টর সমালোচক বলে নিজেকে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কেন্দ্রের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরোধিতায় সংসদের দুই কক্ষেই আরও ঝড় তুলতে চাইছেন মমতা। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাজ্যসভায় পাঠালে তৃণমূলের আওয়াজ আরও জোরদার হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই লক্ষ্যেই এবার অভিজ্ঞ রাজনৈতিবিদদেরই বেছে নিলেন তৃনমূল সুপ্রিমো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here